
শেষ আপডেট: 1 January 2024 19:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: বাংলায় খাপ পঞ্চায়েত নেই। কিন্তু অনগ্রসর কয়েকটি জেলায় আড়ালে আবডালে একশ্রেণির মোড়ল, মাতব্বর যে এখনও নিম্নবর্গের উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার বছরের প্রথম দিনে এমনই অভিযোগ উঠেছে। চন্দ্রকোনার একটি গ্রামে রূপালি হেমব্রম নামে এক মহিলাকে ২ বছর ধরে ডাইনি অপবাদ দিয়ে একঘরে করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। এও বলা হয়েছে, ৫০ হাজার টাকা অপবাদ উঠে যাবে। নইলে অত্যাচার চলবে।
ঘটনাটির সূত্রপাত দুই বছর আগে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সে সময়ে গ্রামের এক নাবালক এবং এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারপর থেকে আচমকা গ্রামের বেশ কিছু মানুষজন ওই গ্রামের জনজাতি মহিলা রুপালী হেমব্রমকে ডাইনি অপবাদ দেওয়া শুরু করে। সেই সময়ে তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। এই অবস্খায় গ্রামের বেশ কয়েকজন মোড়ল নিদান দেয়, পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। তারপরেই সমস্যার সমাধান নিয়ে মীমাংসায় বসবেন তাঁরা। কিন্তু পঞ্চাশ হাজার টাকা না দেওয়ার কারণে এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি। এক ঘরেই রয়ে গিয়েছে পরিবার।
প্রায় দুই বছর ধরে সামাজিকভাবে বয়কট করা হচ্ছে ওই জনজাতি পরিবারকে। রূপালির অভিযোগ, মাঝে মধ্যে চলে মানসিক অত্যাচার, বাড়ি ভাঙচুরও চলে। গোটা ঘটনায় অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে রুপালি ও তার পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতিতা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর অসুস্থ স্বামী নবীন হেমব্রমকে রেখে আসতে হয়েছে আত্মীয়ের বাড়িতে। ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া করে। গ্রামের এই পরিস্থিতির জন্য অধিকাংশ দিন তারা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকে।
রূপালির কাতর আর্জি,“আমি ডাইনি নই। আমি সকলের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে চাই। সমস্যার সমাধান করে দিন।” এ ব্যাপারে রুপালি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তাঁর দাবি।
ঘটনাটির প্রসঙ্গে আদিবাসী সংগঠন তথা ভারত যাকাত মাঝি পরগনা মহলের নেতা দেবেন্দ্র মুর্ম্মু বলেন, "কিছু মানুষের মধ্যে এখনো কুসংস্কার থেকে গিয়েছে। দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।''