দ্য ওয়াল ব্যুরো : ওড়িশা উপকূলে সাইক্লোন ফণী আছড়ে পড়ার কয়েকদিন আগেই প্রায় নিখুঁতভাবে আবহাওয়া অফিস বলে দিয়েছিল, তার গতিবিধি কোনদিকে। সমুদ্রোপকূলে ঠিক কোথায় ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে, তাও প্রায় নির্ভুলভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো সতর্ক হয়েছে সরকার। ঝড়ের গতিপথ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ও গবাদি পশুকে সরিয়ে আনা হয়েছে। রক্ষা পেয়েছে বহু প্রাণ। অনেক সম্পদও ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছে। নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য শনিবার ভারতের আবহাওয়া অফিসের প্রশংসা করল রাষ্ট্রপুঞ্জ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর বলেছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী শুক্রবার পুরীর কাছে আছড়ে পড়ে। ভারতের আবহাওয়া অফিস প্রায় নিখুঁতভাবে তার গতিপথ আন্দাজ করতে পেরেছিল বলেই কর্তৃপক্ষ আগেভাগে অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে পেরেছে।
গত ২০ বছরে ভারতে ফণীর মতো শক্তিশালী সাইক্লোন আর আসেনি। শুক্রবার সকাল আটটা নাগাদ তা ভারতের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ে। আটজন মারা যান। আগে থেকে অনেককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে না আনলে প্রাণহানি অনেক বেশি হত।
সাইক্লোনের ফলে পুরী সহ ওড়িশার উপকূলবর্তী শহরগুলিতে প্রবল বৃষ্টি হয়। পুরীর এক বড় অংশ এখনও জলে ডুবে আছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জও ওই সাইক্লোনের ওপরে নজর রেখেছিল। সেই ঘূর্ণিঝড় এখন গিয়েছে বাংলাদেশে। সেখানে ত্রাণশিবিরগুলিতে যাঁরা আছেন, তাঁরা যাতে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে নজর রেখেছে রাষ্ট্রপুঞ্জের সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
শুক্রবার উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় সাইক্লোনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমিটার। প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় বন্যা হয়ে যায়। ঝড়ের গতিপথে প্রায় দু’লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ বাস করেন। এত মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কাছে ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন দফতরের মুখপাত্র মামি মিজুতরি বলেন, ভারত ‘সেনডাই ফ্রেমওয়ার্ক’ কাজে লাগিয়ে বিপর্যয়ে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। ২০১৫ সালে বিভিন্ন দেশ সেনডাই নেটওয়ার্ক নামে এক চুক্তি করে। তাতে বলা হয়, কোনও দেশে বিপর্যয় মোকাবিলার মূল দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। তাকে আঞ্চলিক সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলির সাহায্যে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র ডেনিস ম্যাকক্লিন বলেন, আবহাওয়া অফিস ঝড়ের গতিপথ সম্পর্কে নিখুঁত পূর্বাভাস দিয়েছিল বলেই প্রায় ১০ লক্ষ মানুষকে আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা গিয়েছিল।