
শেষ আপডেট: 9 March 2023 10:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর প্রদেশের বিধায়ক খুনের অন্যতম সাক্ষী উমেশ পালকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা (Umesh Pal Murder Case) করেছিল আততায়ীরা। তাদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত উসমান তিনদিন আগে যোগী রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে (Encounter) নিহত হয়েছিল। তার মৃত্যুর পরে উসমানের পরিচয় নিয়ে শোরগোল পড়ে গেল ওই রাজ্যে। উসমানের আসল নাম বিজয় চৌধুরী (Vijay Chowdhury)! পুলিশের দাবি, বিজয় মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। এবং নাম রেখেছিল উসমান।
শুধু পুলিশ নয়, একাধিক সংবাদমাধ্যম ও বিজেপির একটি বড় অংশ উমেশের হত্যাকারীর নাম উসমান বলে দাবি করেছে। কিন্তু তার স্ত্রী দাবি করে আসছেন যে, তাঁর স্বামী হিন্দু এবং তার নাম বিজয়। পুলিশের বিরুদ্ধে বিজ্যের
কে এই বিজয়? ২০০৫ সালে বহুজন সমাজ পার্টির বিধায়ক রাজু পাল খুন হয়েছিলেন। সেই খুনের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন উমেশ পাল। বাড়ি সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁকে। এই ঘটনায় ৬ জন দুষ্কৃতীকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল এই বিজয়।
গত সোমবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মারা যায় সে। বিজয়কে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিজয়কে ধরতে যায় পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিজয়। সেই সময় পুলিশের পাল্টা গুলিতে খুন হয় সে।
পুলিশের খাতায়, বিজয়ের নাম ছিল উসমান চৌধুরী। পুলিশের দাবি ছিল, সে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছিল, এবং উসমান নাম রেখেছিল নিজের। এমনকী বিজেপির বহু নেতানেত্রী একই দাবি করেন। বিজেপি বিধায়ক শালাভমণি ত্রিপাঠী বিজয়কে উসমান বলে উল্লেখ করেছিলেন।
বহু সংবাদমাধ্যমে ও সংবাদপত্রের পাতায় উমেশ পালের খুনির নাম বিজয় নয়, উসমান বলেই লেখা হয়েছিল। আবার অনেক জায়গায় উসমান ওরফে বিজয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলেছে একই ট্রেন্ড।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এডিজি প্রশান্ত কুমার সোমবার প্রথম বিজয় চৌধুরীকে উসমান বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে তিনি এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিজয় চৌধুরী ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোমবার যখন সব জায়গায় বিজয়কে উসমান চৌধুরী বলে দাবি করা হচ্ছে, তখন তার স্ত্রী সুহানি বলেন, তাঁর স্বামীর নাম উসমান নয়। পুলিশ মিথ্যে কথা বলছে। পুলিশ ইচ্ছে করে এইসব করছে। এই গ্রামের সবাই তার নাম জানে। কীভাবে সে মুসলিম হয়ে গেল?
তিনি আরও বলেছিলেন যে, তাঁর পরিবার আতিককে চেনে না। তাঁর স্বামী কখনই ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়নি। পাশাপাশি সুহানি বিজয়ের এনকাউন্টার নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, সকালে বিজয়কে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। তারপরই খবর আসে বিজয় মারা গেছে পুলিশের গুলিতে।
সরকারি কর্মচারীদের ধর্মঘট রুখতে কড়া নির্দেশিকা নবান্নর, কাজে না গেলে বেতন নয়, ছেদ চাকরি জীবনেও