প্রতি বছর সব পুলকারের রোড-ফিটনেস পরীক্ষা করাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 December 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উলুবেড়িয়ার পুকুরে পড়ে তিন শিশুর মৃত্যু (Uluberia Pool Car Incident), মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর রাজ্যের পুলকার-নিরাপত্তায় শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য (State New Guideline On Student Safety)।
এ ব্যাপারে পরিবহণ দফতরের বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হল, আর কোনও ঢিলেমি নয়, স্কুলপুলকার চলবে কড়া নিয়ম মেনে। বৈঠকে ছিলেন পুলিশ, পরিবহণ ও স্কুল শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।
পরিবহণ দফতরের এক কর্তার কথায়, “দুই বছর আগে যে গাইডলাইন জারি হয়েছিল, তা সকলে যেন নিখুঁতভাবে মানেন। জেলা-শহর—সব জায়গাতেই নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। নিয়মভঙ্গ করলে ছাড় নেই।”
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—ব্যক্তিগত গাড়ি আর নয় পুলকার হিসেবে। যাঁরা এখনও প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে শিশুদের আনানেওয়া করছেন, তাঁদের তিন মাসের মধ্যে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন কমার্শিয়ালে বদলাতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বৈধ পারমিট ও ফিটনেস সার্টিফিকেট।
গাইডলাইনে যা বাধ্যতামূলক—
• GPS, প্যানিক বাটন ও স্পিড গভর্নর
• সব সিটে সিটবেল্ট
• গাড়ির ভিতর পর্যাপ্ত আলো
• দরজা-জানলায় নিরাপদ লক
• স্কুলব্যাগ রাখার আলাদা জায়গা
• ফার্স্ট এইড বক্স ও ফায়ার এক্সটিংগুইশার
এ ব্যাপারে প্রত্যেক স্কুলে রাখতে হবে একজন ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার, যিনি গাড়ির নিরাপত্তা ও নিয়ম মানা নিয়ে পরিবহণ দফতর ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
শুধু স্কুল নয়, অভিভাবকদের দায়িত্বও বাড়ছে। বৈঠকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠকে পুলকার নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা আলোচনা হোক। বাবা-মায়েদের বলা হচ্ছে—ড্রাইভারের লাইসেন্স, গাড়ির পারমিট, মালিকের ফোন নম্বর জেনে নিতে। মোবাইল অ্যাপ দিয়ে গাড়ির বৈধতাও যাচাই করা যাবে।
পুলকার মালিকরা গতি ৬০ কিমি করতে চাইলেও পরিবহণ দফতর সাফ জানিয়ে দিয়েছে—রাজ্যের রাস্তার বাস্তবতা মাথায় রেখে সর্বোচ্চ গতি ৪০ কিমি। উলুবেড়িয়ার ঘটনা তার সবচেয়ে বড় শিক্ষা। দফতরের এক কর্তার মতে, “রাজ্যে চলছে প্রায় এক লক্ষ পুলকার। তাই সবার সহযোগিতা জরুরি”।
একই সঙ্গে এখন থেকে প্রতি বছর সব পুলকারের রোড-ফিটনেস পরীক্ষা করাও বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।