
হুগলির সেই নেশামুক্তি কেন্দ্র
শেষ আপডেট: 26 April 2024 12:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: গলা জলে ডুবে বসে এক বিদেশী যুবক। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল গরমের জ্বালায় পুকুরে গা ডুবিয়েছেন। ভিড় হয়ে যায় নিমেষে। তারপরেই জানা গেল ব্যান্ডেলের নেশা মুক্তি কেন্দ্র থেকে পালিয়ে এসেছেন ইউক্রেনের নাগরিক ওই যুবক। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ওই যুবককে।
ব্যান্ডেলের নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্মীরা জানিয়েছেন, সপ্তাহ দুয়েক আগে ভর্তি করা হয় ইউক্রেনের যুবক মাইকোলা দিমিত্রভিচকে। নদিয়ার মায়াপুরের ইস্কন কর্তৃপক্ষ নেশামুক্তির জন্য তাঁকে রেখে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে গেট খোলা ছিল। তখনই বেরিয়ে পড়েন তিনি। জানাজানি হতেই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের তরফ থেকে খোঁজ শুরু হয় ওই যুবকের। এদিকে কৈলাশনগরের বাসিন্দারা দেখতে পান মেরিপার্কের পুকুরে গা ডুবিয়ে বসে আছেন এক বিদেশি যুবক।
এলাকার মানুষ বারবার তাঁকে জল থেকে উঠে আসতে বলেন। বাংলা ভাষা বুঝতে অসুবিধা হওয়ায় ডেকে আনা হয় স্থানীয় বাসিন্দা শিবাজী মিত্রকে। তিনি ইংরেজিতে কথা বলে জানতে পারেন নেশা মুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে ওই যুবকের নানান অভিযোগ রয়েছে। তাই পালিয়ে এসেছেন তিনি। পুলিশকেও খবর দিতে বলেন। পরে শিবাজীবাবু বলেন, "ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে বিদেশি যুবকের নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁর উপর অত্য়াচার হচ্ছে বলেও জানান তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের বিষয়টি দেখা উচিত।"
পুলিশ এসে ওই যুবককে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আবার তাঁকে নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ফেরত নিয়ে যান কর্মীরা। ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রের এক কর্মচারী রনি মুখোপাধ্যায় জানান, ইউক্রেনের যুবকের মানসিক সমস্যা আছে বলে তাঁকে তাদের কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসা চলছে।আজ দরজা খোলা থাকার সুযোগে সবার অলক্ষ্যে বেরিয়ে পড়েন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে পাওয়া যায়।