দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার সরকারিভাবে ব্রিটিশ সরকার মেনে নিল, তাদের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ২০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে ব্রিটেনের জিডিপি। কোভিড অতিমহামারীর ফলে ইউরোপের আর কোনও দেশের অর্থনীতির হাল এত খারাপ হয়নি। ব্রিটেনের অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস এদিন জানিয়েছে, গত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে অভুতপূর্ব হারে সংকুচিত হয়েছে অর্থনীতি। এর আগে ২০০৮ সালে বিশ্ব জোড়া অর্থনৈতিক সংকটের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ব্রিটেন। তার অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছিল। এর পরে অতিমহামারীর ফলে ফের মন্দা দেখা দিয়েছে সেই দেশে।
কিছুদিন আগে ব্লুমবার্গের সমীক্ষায় বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের তুলনায় দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির বহর কমবে ২০.৭ শতাংশ। প্রথম ত্রৈমাসিকেও অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল তার আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ২.২ শতাংশ। পরপর দু'টি ত্রৈমাসিকে অর্থনীতির বহর সংকুচিত হলে তাকে মন্দা বলা যায়। সেই হিসাবে বুধবার সরকারিভাবে স্বীকার করে নেওয়া হল, ব্রিটেনের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছে।
অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য ইতিমধ্যে কয়েকশ কোটি ডলার ব্যয় করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিভিন্ন সংস্থা যাতে ব্যাপক হারে ছাঁটাই না করে, তার চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ড বিপুল পরিমাণে সম্পত্তি 'বাই ব্যাক' করেছে। সেই সঙ্গে সুদের হার নামিয়ে এনেছে শূন্যে। তার পরেও জিডিপি-র ব্যাপক সংকোচন রোধ করা যায়নি। ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে জিডিপি হ্রাসের নিরিখে ব্রিটেনের পরেই আছে স্পেন। তার মোট জাতীয় আয় সংকুচিত হয়েছে ১৮.৫ শতাংশ। ফ্রান্সের জিডিপি সংকুচিত হয়েছে ১৩.৮ শতাংশ।
করোনা অতিমহামারীতে ইউরোপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা গিয়েছেন ব্রিটেনে। অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক পরে লকডাউন করেছিল সেই দেশের সরকার। সম্ভবত তারই ফল ভুগতে হচ্ছে দেশকে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনের জিডিপি পরিষেবা ক্ষেত্রের ওপরে নির্ভর করে বেশি। সেজন্যও মোট জাতীয় উৎপাদন এত বেশি পরিমাণে কমতে পারে।
অফিস অব ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস জানিয়েছে, গত মার্চ থেকে ব্রিটেনে ৭ লক্ষ ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। সরকারের এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট পলিসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবর মাসে। এর পরে বিভিন্ন কোম্পানি আরও বেশি হারে লোক ছাঁটাই করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিএমসি মার্কেটস-এর অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল হিউসন বলেন, "আগামী দিনে ঠিক কত কর্মী ছাঁটাই হবেন বলা মুশকিল। তবে অনেকেই ছাঁটাই হবেন সন্দেহ নেই। অর্থনীতি কবে এই ধাক্কা সামলে উঠবে, সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।"