দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস অতিমহামারীর সময় প্যারাসিটামল রফতানির ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। রবিবারই ভারত থেকে ৩০ লক্ষ প্যারাসিটামল প্যাকেট নিয়ে একটি বিমান পৌঁছবে ব্রিটেনে। এই বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তারিক আহমেদ।
শুক্রবার তারিক আহমেদ বলেন, এই অভূতপূর্ব সংকটের দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে ভারত ও ব্রিটেন। সেজন্যই আমাদের দেশে ভারত প্যারাসিটামল পাঠাচ্ছে।
একইসঙ্গে ভারতে লকডাউনে আটকে পড়া কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিকও রবিবার স্বদেশে ফিরছেন। তাঁরা এখন রয়েছেন গোয়া, মুম্বই, দিল্লি, অমৃতসর, আমেদাবাদ, তিরুঅনন্তপুরম, হায়দরাবাদ, কলকাতা, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে। তাঁরা চ্যাটার্ড বিমানে চড়ে ব্রিটেনে ফিরবেন। বিমানে ওঠার আগে পরীক্ষা করা হবে, তাঁদের কারও শরীরে কোভিড ১৯ এর লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে কিনা। ব্রিটেনে ফেরার পর কিছুদিন তাঁদের থাকতে হবে সেলফ আইসোলেশনে।
একটি সূত্রের খবর, ভারতে এখন ২১ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আছেন। তাঁদের মধ্যে আগামী রবিবার ফেরানো হবে ৫ হাজার জনকে। বাকিরা ফিরবেন পরের সপ্তাহে। ভারতের বিভিন্ন শহর থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৯ টি চ্যাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চ্যাটার্ড বিমানে আসন বুক করতে গেলে দিতে হবে ৬০০ থেকে ৬৫০ পাউন্ড। যাঁরা আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন, তাঁদের ওই অর্থ বিনা সুদে ধার হিসাবে দেওয়া হবে। সেই ধার শোধ করতে হবে ছ’মাসের মধ্যে।
শুক্রবার অবধি ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৫ হাজার মানুষ। মারা গিয়েছেন ৮ হাজার মানুষ।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্য চিনের উহান শহরে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ৯ জানুয়ারি। তার পর থেকে কোভিড সংক্রমণে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে ৮৩ দিন সময় লেগেছে। কিন্তু তার পর মাত্র আট দিনে আরও ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে আমেরিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। প্রায় পাঁচ লক্ষ ছুঁই ছুঁই। গত চব্বিশ ঘন্টায় সেখানে নতুন ১৮ হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। সেই সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩০০ জনের।
গতকাল বৃহস্পতিবারই গোটা পৃথিবী জুড়ে কোভিডের আক্রমণে ৭৩০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েকদিন ধরে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে ৬ থেকে ১০ শতাংশের গড়ে মৃত্যু হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে মতান্তরও রয়েছে। অনেকের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। অনেকেরই শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দিচ্ছে না।
বিশ্ব জুড়ে এই মহামারীকে ষাটের দশকে বিলেতের প্লেগ মহামারীর সঙ্গে তুলনা করছেন। তখনও প্রায় ১ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল শুধু লন্ডন শহরেই।
যদিও এই সংখ্যা স্প্যানিশ ফ্লুতে মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় কম। ১৯১৮ সালে সেই অতি মহামারী ছড়িয়েছিল। তাতে ২০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা যায়।