দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগে হংকং-এ নতুন নিরাপত্তা আইন জারি করেছে চিন। পশ্চিমী দেশগুলির অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইচ্ছামতো শহরের মানুষকে গ্রেফতার করতে পারবে চিন। নতুন আইনে হংকং-এর এক বাসিন্দা গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা করলেন, প্রয়োজনে ওই শহরের মানুষকে নাগরিকত্ব দিতে তৈরি তাঁর দেশ।
১৯৯৭ সাল অবধি হংকং ছিল ব্রিটেনের অধীনে। এরপর ওই শহরটি চিনের হাতে যায়। তখন চিন বলেছিল, আগামী ৫০ বছর হংকং-এর প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার স্বশাসন বজায় রাখা হবে। কিন্তু গত সপ্তাহে চিনের সংসদ যে নিরাপত্তা আইন পাশ করিয়েছে, তাতে হংকং-এর স্বশাসনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
নতুন নিরাপত্তা আইনে কী আছে এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু হংকং-এর শেষ ব্রিটিশ গভর্নর ক্রিস প্যাটেন বলেছেন, খুব খারাপ একটা আইন এনেছে চিন। নতুন নিরাপত্তা আইন যত খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে আইনটি তার থেকেও খারাপ।
এই আইনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য হংকং-এর কয়েক লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব দিতে চায় ব্রিটেন। বুধবার বরিস জনসন চিনকে সতর্ক করে বলেছেন, আমরা হংকং-এর বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন উপায় বার করতে পারি। এখনই শহরের ৩ লক্ষ মানুষ ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজ-এর স্ট্যাটাস পেয়ে থাকেন। আরও ২৬ লক্ষ শহরবাসী ওই স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্য আবেদন করার যোগ্য। ব্রিটেনের বিদেশ সচিব ডোমিনিক রাব বলেন, এবার ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজদের ওপরে নির্ভরশীল মানুষজনকেও নাগরিকত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও এক্ষেত্রে মোট কতজন নাগরিকত্ব পাবেন, তা রাব জানাননি।
ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমের খবর, বিদেশ সচিবের অফিস থেকে চিনের রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়াওমিং-কে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে জানানো হয়েছে, চিনের নতুন আইন নিয়ে ব্রিটেন গভীর উদ্বিগ্ন।
বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, হংকং-এ যাঁরা ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজ স্ট্যাটাস পেয়েছেন এবং তাঁদের ওপরে নির্ভরশীল মানুষজন ব্রিটেনে পাঁচ বছর পড়াশোনা বা কাজ করার অধিকার পাবেন। তাঁরা আরও বেশিদিন থাকার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যও আবেদন করতে পারবেন।
বিদেশ সচিবের কথায়, "চিন হংকং-এর মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পালন করছে না। কিন্তু আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করব।"