দ্য ওয়াল ব্যুরো : উজ্জয়িনীর বিখ্যাত মহাকালেশ্বর শিব মন্দিরে সোমবার পুজো দিতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন ভিআইপি। তাঁদের জন্য মন্দিরে ঢোকার রাস্তা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছিল। তাতে অন্যান্য ভক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মন্দিরের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু হয়। পদপিষ্ট হয়ে আহত হয় নারী, শিশু সহ অনেকে।
মন্দিরের চার নম্বর গেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভিড়ের চাপে সিকিউরিটি কর্ডন ভেঙে পড়ে। তখনই অনেকে মাটিতে পড়ে যান। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, অনেকে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করছেন। পুলিশ ভিড় সামলাতে পারছে না।
মহাকালেশ্বর মন্দির গত মাসে খুলে দেওয়া হয়। যাঁরা কোভিড ভাকসিনের অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন এবং আরটি-পিসিআর টেস্টে কোভিড নেগেটিভ হয়েছেন, কেবল তাঁরাই মন্দিরে ঢুকতে পারছেন। সন্ধ্যায় ছ'টা থেকে আটটা অবধি মন্দির খোলা থাকছে। মোট ৩৫০০ ভক্তকে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সাত দফায় মন্দিরে ঢুকছেন। প্রতি দফায় ৫০০ জনকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
মন্দিরের কর্তারা বলেন, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপির নেত্রী উমা ভারতীও মন্দিরে ঢুকেছিলেন। তাঁদের পরিবারও সঙ্গে ছিল। ভিআইপিদের জন্যই সোমবার ভিড় সামলানো যায়নি। উজ্জয়িনীর জেলা কালেক্টর আশিস সিং বলেন, এরকম বিশৃঙ্খলা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন যেভাবে ভক্তরা মন্দিরে ঢুকছেন, তাতে কোভিড বিধি মেনে চলা যাচ্ছে না। আগামী দিনে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
এরই মধ্যে শিবরাজ সিং জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশে কোভিড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি রাজ্যে লকডাউনের বিধিনিষেধের রাশ আলগা করার কথা ঘোষণা করেছেন। নতুন গাইডলাইন অনুসারে সিনেমা হল খুলতে পারে ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে। রেস্তোরাঁগুলি যত আসন, তত খদ্দের বসিয়ে চলতে পারবে। এতদিন সিনেমা হলগুলি বন্ধই ছিল। রেস্তোরাঁগুলি চলত ৫০ শতাংশ কাস্টমার নিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানও সর্বোচ্চ ১০০ লোককে নিয়ে হতে পারে। মৃতের শেষকৃত্যে সর্বোচ্চ ৫০ জন থাকতে পারবেন। বাজারহাট আগে খোলা থাকত রাত ৮টা পর্যন্ত, এখন রাত ১০টা অবধি কেনাবেচা চলবে।
শিবরাজ বলেন, মহারাষ্ট্র, কেরলে সংক্রমণ কমছে না। দক্ষিণ ভারত, উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলিতেও বাড়ছে। আগস্টে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। কিন্তু আমরা তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দায়বদ্ধ।