দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মধ্য মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। বিধায়ক হওয়ার আগেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। বিধায়ক না হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার উদাহরণ অবশ্য কম নেই। পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিধায়ক হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্রে উদ্ধবের আগে আরও সাত জন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বিধায়ক না হয়েই।
সংসদে যেমন দু’টি কক্ষ রয়েছে, লোকসভা (নিম্নকক্ষ) ও রাজ্যসভা (উচ্চকক্ষ), মহারাষ্ট্র বিধাসভাতেও তেমন দু’টি কক্ষ রয়েছে, বিধানসভা (নিম্নকক্ষ) ও বিধান পরিষদ। কংগ্রেসের আব্দুল রেহমান আন্তুলে, বসুন্ধরা পাটিল, শিবাজিরাও নিলাঙ্গেকর পাটিল, শঙ্কররাও চৌহান, সুশীলকুমার শিন্ডে ও পৃথ্বীরাজ চৌহান মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন এই দুই কক্ষের কোনও একটিরও সদস্য না হয়েও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল উদ্ধব ঠাকরের নাম। তিনিও কোনও কক্ষের সদস্য না হয়েও মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।
মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে বাইরে রেখে জোট চূড়ান্ত হওয়ার পরে সেই জোটের নাম দেওয়া হয় মহারাষ্ট্র বিকাশ আগড়ি। সেই জোটের নেতা হিসাবে উদ্ধবকেই মনোনীত করেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) সভাপতি শরদ পাওয়ার। শরদ পাওয়ারই ঘোষণা করেন যে মহারাষ্ট্রের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরেই। নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কক্ষের সদস্য হতে হবে।
১৯৮০ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন এআর আন্তুলে। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ওই পদে বসেন বসুন্ধরা পাটিল। ১৯৮৫ সালের জুন মাসে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন নিলাঙ্গেকর-পাটিল। ১৯৮৬ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদ ছেড়ে এসে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন শঙ্কররাও চৌহান। মুম্বইয়ে দাঙ্গার পরে সুধাকররাও নায়েককে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন ১৯৯৩ সালের মার্চে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী করা হয় শরদ পাওয়ারকে, শরদ তখন নরসিমহা রাও মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
২০১০ সালে অশোক চবনের বদলে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী করে পাঠানো হয় কেন্দ্রে মনমোহন সিং মন্ত্রিসভার সদস্য পৃথ্বীরাজ চৌহানকে। আন্তুলে, নিলাঙ্গেকর-পাটিল ও সুশীলকুমার শিন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটে জিতে বিধায়ক হন। অন্যরা বিধান পরিষদের সদস্য হয়ে যান।
উদ্ধব ঠাকরের আগে ঠাকরে পরিবার থেকে কেউ প্রশাসনিক পদে বসেননি। ২০১৯ সালের আগে কেউ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। উদ্ধবের ছেলে আদিত্য এবার ওরলি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছেন এবং জিতেছেন।