দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারার কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে। সেই অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এইসময় উদ্ধবের ২০১৮ সালের একটি ভাষণের ক্লিপিংস ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে শোনা যায়, উদ্ধব উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে জুতো পেটা করার কথা বলেছেন। বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, উদ্ধবকে চড় মারার কথা বলা যদি অন্যায় হয়, তাহলে যোগীকে জুতো মারার কথা বলা অন্যায় নয় কেন?
যোগী সম্পর্কে উদ্ধব বলেছিলেন, “তিনি কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন? তিনি তো যোগী। তাঁর উচিত সবকিছু ত্যাগ করে গুহায় বসে থাকা। কিন্তু তিনি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে আছেন এবং নিজেকে যোগী বলে দাবি করছেন।” পরে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের গভীর সম্পর্ক আছে। সেকথা যোগীর জানা উচিত। শিবাজির অভিষেকের সময় উত্তরপ্রদেশের এক পুরোহিতকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। যোগীকে হাওয়াভর্তি বেলুনের সঙ্গে তুলনা করেন উদ্ধব। তাঁর অভিযোগ, যোগী পায়ে চপ্পল পরে শিবাজির মূর্তিতে মালা দিয়েছিলেন। এরপরেই উদ্ধব বলেন, “আমি মনে করি, ওই চপ্পল দিয়েই তাঁকে মারা উচিত। শিবাজির মূর্তির সামনে দাঁড়ানোর অধিকার তাঁর নেই।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলেছেন, যোগী আদিত্যনাথের উচিত উদ্ধবের বিরুদ্ধে মামলা করা।
গত সোমবার রায়গড়ে বিজেপির 'জন আশীর্বাদ যাত্রা'-র সময় রানে দাবি করেন, স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দেওয়ার সময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে মাঝপথে একবার ভাষণ থামিয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি এক সহকারীর কাছে জেনে নেন, ভারত কত সালে স্বাধীনতা পেয়েছিল। তারপর ফের ভাষণ শুরু করেন।
এরপরেই রানে বলেন, "লজ্জার ব্যাপার হল, মুখ্যমন্ত্রী জানেন না কোন সালে ভারত স্বাধীনতা পেয়েছিল। তাঁকে ভাষণ থামিয়ে সালটা জেনে নিতে হয়েছিল। আমি সেখানে থাকলে উদ্ধব ঠাকরেকে চড় মারতাম।"
এই মন্তব্যের পরেই মহারাষ্ট্র জুড়ে শিবসেনা সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মঙ্গলবার শিবসেনা সদস্যরা মিছিল করে মুম্বইতে রানের বাড়ির দিকে এগোতে চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁদের বাধা দেন। দু'পক্ষে মারামারি শুরু হয়। দুই দলই পরস্পরের দিকে পাথর ছোড়ে। পুলিশ এসে গোলমাল থামানোর চেষ্টা করে। শেষে শিবসেনা সমর্থকরা জুহুতে রানের বাড়ির বাইরে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন। এদিন সকালে নাগপুরে বিজেপি অফিসে একদল শিবসেনা সমর্থক পাথর ছোড়েন।