দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে গিয়ে গভীর রাতে দেখা করেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে ও তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরে। সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে বদ্ধপরিকর শিবসেনা। সে কারণেই এই জরুরি সাক্ষাৎ।
সরকার গঠনের পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে পারেন উদ্ধব ঠাকরে। একইসঙ্গে তিনি শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের নেতৃত্বও দিতে পারেন বলে শিবসেনার অন্দরমহল সূত্রে জানা গিয়েছে। এ-ও শোনা যাচ্ছে, এই জোটকে মহারাষ্ট্র বিকাশ আন্দোলন (উন্নয়ন ফ্রন্ট) বলে উল্লেখ করেছেন উদ্ধব। তবে উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হলে তার মেয়াদ আগামী পাঁচ বছর থাকবে নাকি আড়াই বছর পরে এনসিপি-কে ওই পদ হস্তান্তর করা হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি।
যদিও শিবসেনা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, পূর্ণ মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই তারা উদ্ধব ঠাকরেকে দেখতে চায়। তাই এ বিষয়ে যাতে কংগ্রেস ও শিবসেনা একমত হতে পারে, সে বিষয়ে আজ, শুক্রবার আলোচনাতেও বসার কথা তাদের। সম্ভবত, সে বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার আশাতেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন উদ্ধব ও আদিত্য। শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত এবং এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচনের পরে মহারাষ্ট্রে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারায় মহারাষ্ট্রে অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সেখানে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। এর পরে শেষমেশ কোন দল আসবে ক্ষমতায়, সে বিষয়ে আজই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বৈঠকে।
জানা গেছে, নতুন জোট তৈরি হলে কৃষি উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও ভর্তুকিযুক্ত খাদ্য পরিকল্পনার উপর জোর দেবে শিবসেনা। অন্য দিকে, কংগ্রেসের যে সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি আছে তাতে তারা দাবি করেছে, শিবসেনা যেহেতু একটি হিন্দুত্ববাদী দল, তাই "ধর্মনিরপেক্ষ" শব্দটি জোটে অন্তর্ভুক্ত করা উপযুক্ত নয়। তবে বৈঠকে কোনও একটা রফাসূত্র বেরোবে বলেই আশা করছে সব পক্ষ।
সেনা ও এনসিপির সূত্রের দাবি, সব কিছু ঠিকঠাক চললে রবিবার বা সোমবারও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে।