দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের পালঘরে গণপিটুনিতে দুই সাধু এবং তাঁদের গাড়ির চালকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করলেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে। উদ্ধব জানিয়েছেন, তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা প্রধান বলেছেন, "আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজিকে বলেছি, এটাকে যেন সাম্প্রদায়িক রং না দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার কিচ্ছু নেই। এ নিয়ে যেন ভুল বোঝাবুঝি না হয়।"
উদ্ধব জানিয়েছেন, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি দাদারা-নগর হাভেলি আর মহারাষ্ট্রের সীমানা। পুলিশ যখন দাদরা-নগর হাভেলিতে সাধুদের গাড়ি ঢোকার অনুমতি দেয়নি তখন তাঁরা আবার.মহারাষ্ট্রেই ফিরে আসছিলেন। সেই সময়েই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরও জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই ১০০ জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তিনি অমিত শাহকে বলেছেন, এই ঘটনায় দোষীদের কোনওভাবেই রেয়াত করবে না সরকার। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই পালঘর নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ওই ঘটনা নিয়ে বাংলারও কেউ কেউ সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে বলে কলকাতা পুলিশের ফেসবুক পেজে রিপোর্ট জমা পড়েছে। এদিন শাহকে উদ্ধব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ঘটনা একেবারেই সাম্প্রদায়িক নয়।
গত শুক্রবার ওই ঘটনা ঘটে পালঘরে। মারধর করেই ক্ষান্ত হননি গ্রামবাসীরা। পুলিশের দুটো গাড়ি সমেত মোট তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। জানা গিয়েছে, মৃত তিন ব্যক্তির নাম সুশীলগিরি মহারাজ, চিকনে মহারাজ এবং নীলেশ তেলগড়ে (গাড়ির চালক)। রবিবার রাতে পুলিশ জানায় কিডনি চোর সন্দেহে তিন জনকে পিটিয়ে মারা হয়।
সাধুদের গাড়ির চালক কোনওভাবে পুলিশকে খবর দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গ্রামবাসীদের বেধড়ক মারে নিহত হয়েছেন ওই তিন ব্যক্তি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধারে করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।