দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার তিরুবনন্তপুরম বিমান বন্দরে ৩০ কেজি সোনা সহ একটি ব্যাগ আটক করা হয়। জানা যায়, ওই সোনা পাঠানো হচ্ছিল তিরুবনন্তপুরমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কনস্যুলেটে। বুধবার জানা গেল, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আমিরশাহি সরকার। ভারতে আমিরশাহির দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, যারা ওই সোনা পাঠিয়েছিল, তারা আমাদের দেশের সম্মান নষ্ট করতে চায়। আমরা তাদের ছাড়ব না।
দিল্লিতে আমিরশাহির দূতাবাস থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, "আমাদের কনস্যুলেটের নামে কে সোনাভর্তি ব্যাগ পাঠাচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।"
https://twitter.com/UAEembassyIndia/status/1280509748723449856
রবিবার কাস্টমস থেকে সোনাভর্তি ব্যাগ আটক করার পরে সরিথ কুমার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি একসময় আমিরশাহির কনসাল জেনারেলের অফিসে প্রেস রিলেশন অফিসার ছিলেন। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পরে নিখোঁজ হয়ে যান স্বপ্না সুরেশ নামে এক মহিলা। তিনি স্পেস পার্ক ও কেরল স্টেট ইনফরমেশন টেকনোলজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মী ছিলেন।
সোনা স্মাগলিং নিয়ে কেরলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। অনেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কেরলের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রধান সচিব এম শিবশংকর সোনা পাচারে যুক্ত ছিলেন। সরকার তাঁকে আড়াল করতে চাইছে। শিবশংকর তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের সচিব হিসাবেও কাজ করতেন। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সচিবের স্মাগলিং-এ জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিরোধী নেতা রমেশ চেন্নিথালা সোনা চোরাচালানের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি সরাসরি বলেন, শিবশংকর স্মাগলিং চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এদিন তিনি টুইট করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অফিস ও তাঁর সচিব যে চোরাচালানে যুক্ত ছিলেন তা এখন পরিষ্কার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়ে চেন্নিথালা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কনস্যুলেটকে যে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়, তারা তার অপব্যবহার করেছে।
চিঠিতে চেন্নিথালা বলেছেন, “স্মাগলিং-এর মামলায় প্রধান অভিযুক্ত স্বপ্না সুরেশকে কেরল সরকার চাকরি দিয়েছিল। অনেকে বলেছিলেন, তাঁর সম্পর্কে পুলিশ খারাপ রিপোর্ট দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেকথায় কান দেয়নি।”
কেরল বিজেপির সভাপতি কে সুদর্শন বলেন, “ওই মহিলাকে যাতে পুলিশ না ধরে, সেজন্য সিএমও থেকে ফোন গিয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়েছিল? যদি কেরলের তথ্যপ্রযুক্তি সচিবের মোবাইলের কল রেকর্ড দেখা যায়, তাহলেই সব জানা যাবে।”