
শেষ আপডেট: 9 April 2025 19:08
হায়দরাবাদে কাজের লোভ দেখিয়ে রাজ্যের বাইরে পাচারের চক্রান্ত করা হয়েছিল দুই কিশোরীকে। ফাঁদে পা দিয়েও ফেলেছিল তারা। রেল পুলিশের তৎপরতায় কোনওমতে রক্ষা পেল মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা ক্লাস নাইনের দুই ছাত্রী।
পুলিশসূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ এপ্রিল। পরিবারকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি ছাড়ে ওই দুই নাবালিকা। প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনে মালদহ পর্যন্ত আসে তারা। সেখান থেকে সাধারণ টিকিট কেটে উঠে পড়ে উত্তরবঙ্গগামী ‘তিস্তা তোর্সা’ এক্সপ্রেসে। গন্তব্য কলকাতা। গতকাল মঙ্গলবার, তারা পৌঁছয় শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখান থেকে বাসে চড়ে যায় সাঁতরাগাছি স্টেশনে।
কিন্তু পরিকল্পনা মতো আর এগোতে পারেনি তারা। সাঁতরাগাছি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘক্ষণ তাদের বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় এক সহযাত্রীর। দু’জনের কথাবার্তা কানে যেতেই আশঙ্কা জাগে তাঁর। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি জানান জিআরপির কর্তব্যরত আধিকারিকদের। জিআরপির জওয়ানরা দুই নাবালিকাকে আটক করে নিয়ে যান থানায়। পুলিশের জেরায় তারা স্বীকার করে, বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে তারা।
সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সঙ্গে। জানা যায়, ইতিমধ্যেই ওই দুই ছাত্রীর নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে সেখানে। বুধবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ ও দুই কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা পৌঁছন শালিমার জিআরপি থানায়। দুই ছাত্রীকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদে কাজের টোপ দেখিয়ে কোনো চক্র রাজ্যের বাইরে পাচারের চেষ্টা করছিল এই দুই নাবালিকাকে। যারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “চাকরি দেওয়ার নাম করে মেয়েদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটিকে পাচারের চেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে। সতর্ক না থাকলে এই দুই মেয়েকে হয়তো আর ফিরিয়ে আনা যেত না। এর সঙ্গে আন্তরাজ্য পাচার চক্র জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”