দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহারের হোমে যৌন নির্যাতন কাণ্ডে এবার হোমের মহিলা কেয়ারটেকার-সহ দু'জনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। সৈস্তা পরভিন ওরফে মধু নামের এই কেয়ারটেকার আবার ঘটনার মূল অভিযুক্ত ব্রজেশ ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ বলেও জানিয়েছে সিবিআই।
সিবিআই-এর এক তদন্ত অফিসার জানিয়েছেন, হোমের কিশোরীদের কেয়ারটেকার মধুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নানা রকম অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি-সহ নাচ এবং পুরুষদের কী ভাবে আকৃষ্ট করতে হয়, তার ছল-কৌশল শেখানো হতো। মধু অবশ্য ধরা পড়ার পরে জানিয়েছে, সে কোনও ভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়নি বলে দাবি তার।
ওড়না দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে মধু সাংবাদিকদের বলে, ‘"আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি ব্রজেশ ঠাকুরের হয়ে কাজ করতাম ঠিকই, কিন্তু সে কী কাজ করতো তা আমার জানা ছিল না। আমার কাছে কোনও গোপন তথ্য নেই। আমি জানি না ঠাকুর কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না। আমি শুধু তার সংবাদপত্র দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলাম। নিজের ব্যবসার কাজে মন্ত্রী–ভিআইপিদের খবর ছাপাতে বলত সংবাদপত্রে, যেটা করতে আমি অস্বীকার করেছিলাম। আমি সিবিআইয়ের তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত।"
মধুক গ্রেফতারির পরেই অশ্বিনী কুমার নামের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করে সিবিআই। এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে হোমের কিশোরীদের উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য নানা রকমের ইঞ্জেকশন দিত।
সিবিআই জানিয়েছে, মধু বিহারের চতুর্ভুজ স্থান এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে ব্রজেশ ঠাকুরের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মধুর। সেই সময়ে মধু যৌনপল্লীর মেয়েদের পুনর্বাসনের কাজে যুক্ত ছিল। সূত্রের খবর, ব্রজেশ ঠাকুরের সমস্ত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দায়িত্বে ছিল মধু। যে হোমে এই যৌন-কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে, তার দায়িত্বেও ছিল এই মহিলাই।