দ্য ওয়াল ব্যুরো : শহিদ জওয়ান বাবলু সাঁতরার গ্রাম বাউড়িয়ার চককাশিপাড়ায় অধিকাংশ বাড়িতেই শনিবার পালিত হয়েছে অরন্ধন। এদিনই গ্রামের ছেলে বাবলু সাঁতরার কফিনবন্দি দেহ এসেছে বাড়িতে। মহিলারা জানিয়েছেন, তাঁদের রান্নার ইচ্ছাই হয়নি। বাচ্চারা মুড়ি বিস্কুট খেয়ে কাটিয়েছে। গ্রামের মানুষ অপেক্ষা করছেন স্থানীয় অমর সঙ্ঘের মাঠে। সেখানেই আনা হয়েছে বাবলু সাঁতরার দেহ।
এদিন আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁরা স্লোগান দিয়েছেন, পাকিস্তান মুর্দাবাদ। অমর সঙ্ঘের মাঠে প্রায় এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট রাখা হয় বাবলুর দেহ। তাঁর মা ও স্ত্রীকে সেখানে আনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে গ্রামের পাশের শ্মশানে বাবলুর শেষকৃত্য হয়।
অপর শহিদ সিআরপিএফ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসেরও দেহ এদিন এসেছে বাড়িতে। দমদম বিমান বন্দর থেকে থেকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে তাঁর কফিনবন্দী দেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেহট্টের হাঁসপুকুরিয়ায়। পথে রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, জাগুলিয়ার মতো জায়গায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বহু মানুষ জড়ো হয়ে শহিদকে শ্রদ্ধা জানান। রাত ১০ টা নাগাদ তাঁর দেহ পৌঁছয় গ্রামে।
সুদীপ ছেলেবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। তিনি সিআরপিএফের ৯৮ নম্বর ব্যাটেলিয়নের জওয়ান ছিলেন। কয়েকদিন আগেই ফোনে কথা বলেছেন বোনের সঙ্গে। তাকে বলেছিলেন, তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন।
সুদীপের গ্রামেও এদিন পালিত হচ্ছে অরন্ধন। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া অবধি দু’চোখের পাতা এক করেননি সুদীপের মা মমতা বিশ্বাস। তাঁর বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাস বলেন, ছেলে যেদিন চাকরি পেল, গোটা গ্রামের লোক খুশিতে ভেঙে পড়েছিল। এখন থেকে লোকে আমাদের বলবে শহিদের বাবা-মা।
এদিন সুদীপের বাড়ির পাশে তেলিপাড়ার মাঠে রাখা হয়েছে কফিন। সেখানে গ্রামের লোক ভেঙে পড়েছে। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস।
https://www.youtube.com/watch?v=RP7LnlN85lc&feature=youtu.be