দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার পুলিশের জালে কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের মাথা দেবাঞ্জন দেবের দুই সহযোগী। তারাও নানা ধরনের প্রতারণায় দেবাঞ্জন দেবকে সাহায্য করায় অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুই ধৃতের মধ্যে এক জন আবার দেবাঞ্জনেরই খুড়তুতো ভাই। তাঁর নাম কাঞ্চন দেব। তিনিই দেবাঞ্জনের অফিস দেখাশোনা করতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই কাণ্ডে ধৃত অন্য যুবকের নাম শরৎ পাত্র। তিনি বিভিন্ন শিবিরে আসা মানুষদের ভ্যাকসিন দিতেন। তিনি আগে কাজ করতেন তালতলা এলাকার এক চিকিৎসকের চেম্বারে। সেখানেই ইঞ্জেকশন দিতে শিখেছিলেন তিনি। ধৃত ওই দু’জনকে ৫ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
যত সময় এগোচ্ছে, ততই যেন দেবাঞ্জনের প্রতারণার চওড়া জালের নানা প্রান্তে পৌঁছচ্ছে পুলিশ। এই কাঞ্চন দেব দেবাঞ্জনের সর্বক্ষণের সঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও এত দিন চুপ করে ছিলেন। এবার তিনিই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। দাবি করেছেন, তিনিও আদতে প্রতারিত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, নিজের পিঠ বাঁচাতেই আগেভাগে পুলিশে অভিযোগ করেছেন কাঞ্চন।
অথচ তিনি প্রথম থেকেই তিনি জানতেন দেবাঞ্জন মোটেও আইএএস নন। দেবাঞ্জনের প্রতারণা-কারবারেও কাঞ্চন যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। এমনকি কাঞ্চন যে দেবাঞ্জনকে ঠকাতেন নানা বিষয়ে, সে প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
এদিকে দেবাঞ্জনের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য গতকালই দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল মানসিক রোগের শিকার, সবার আগে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজন। গতকাল আদালতে দেবাঞ্জনের জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী, তা যদিও খারিজ হয়।
শুনানি চলার সময়েই দেবাঞ্জনের আইনজীবী আদালতে জানান, কেবল এখন বলে নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক রোগে আক্রান্ত দেবাঞ্জন। তিনি জানান, ২০১৮ সালে উত্তর কলকাতার এক নামী মনোবিদের কাছেও গিয়েছিলেন দেবাঞ্জন। তবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় কাউন্সেলিং করাতে পারেননি তিনি। একথা জানিয়ে আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য এদিন আরও দাবি করেন, পুলিশ কী করে জানল দেবাঞ্জনের ভ্যাকসিন সঠিক না জাল!
সাংবাদিকদের কাছেও আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য জানান, দেবাঞ্জন বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন, তাই তাঁর মানসিক রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও নথি এই মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আইনজীবী আরও বলেন, তদন্ত চলাকালীন যেসব জিনিস উদ্ধার হবে তা যে ভিডিওগ্রাফি করা হয়। কারণ পরে যেন বলার সুযোগ না থাকে যে কোনও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। দিব্যেন্দুবাবু আরও বলেন, "আমার মনে হয় দেবাঞ্জন পরিস্থিতির শিকার। দেবাঞ্জন যা করেছে তা ওয়েলফেয়ারের জন্য। আপনারা দেখাতে পারবেন না একটা টাকাও দেবাঞ্জন কারও কাছ থেকে নিয়েছে।"