
শেষ আপডেট: 14 March 2024 21:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: কন্যা দায়গ্রস্ত বাবা-মা। অর্থের অভাবে মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না, এমন হতদরিদ্র পরিবারই ছিল তাদের টার্গেট। বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পৌঁছে যেত সেই সব পরিবারের কাছে। বিয়ের ব্যবস্থা করে দিত তারা। বদলে মেয়ের পরিবারকে টাকাও দিত। এভাবেই ঘটকালির আড়ালে চলত নারী পাচার। এমনই অভিযোগে কাশ্মীরের পুলিশ হাওড়ার বাঁশবেড়িয়া থেকে এক মহিলা ও তাঁর সঙ্গীকে গ্রেফতার করল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মগরা থানার বাঁশবেড়িয়া ইসলামপাড়ার বাসিন্দা জইতুন বিবি। দু'বছর ধরে ঘটকালি করার আড়ালে নারীপাচারের ফাঁদ পেতে ছিল। মূলত দরিদ্র পরিবারে মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করার আড়ালেই চলছিল এই কারবার। এলাকার বেশ কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, তাঁরা ওই মহিলার কথায় মেয়েকে বিয়ের জন্য জম্মু কাশ্মীরে পাঠিয়েছিলেন।
এই ঘটনার কথা ফাঁস হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিন জম্মু-কাশ্মীরের বড়গাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়। বড়গামের সখি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে। তখনই নারী পাচারের ঘটনা সামনে আসে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। পাচার হওয়া মহিলাদের গোপন জবানবন্দিতে জইতুনের নাম জানতে পারে পুলিশ। বুধবার জম্মু-কাশ্মীর থেকে দুই মহিলা পুলিশ কর্মী সহ মোট ছয়জন পুলিশ কর্মী মগরায় আসে। মগরা পুলিশের সাহায্যে ইসলামপাড়া থেকে জইতুন ও তার সঙ্গী মহম্মদ ফিরোজকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করে ১০ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে কাশ্মীরে নিয়ে যায় পুলিশ।
অভিযুক্ত মহিলার প্রতিবেশী মহম্মদ সাহবুদ্দিন বলেন, "জইতুন ঘটকালি করে। অনেক মেয়েকে কাশ্মীরে বিয়ে দিয়েছে। কাশ্মীর থেকে ছেলেরা আসে। এতদিন এই ধরনের অভিযোগ শুনিনি। গরিব মেয়েদের এভাবে বিক্রি করত। বিশ্বাস করতে পারছি না"।
অভিযুক্তের স্বামী সুরেশ রায় বলেন, তিনি দু দিন আগে বিহারের দেশের বাড়ি থেকে এসেছেন। কী হয়েছে জানেন না। কাশ্মীরের পুলিশ এসে তাঁর স্ত্রীকে ধরে নিয়ে গেছে।