
শেষ আপডেট: 22 February 2023 09:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পের (Turkey Earthquake) পর কেটে গেছে প্রায় ২৮০ ঘণ্টা। ঘর-বাড়ি, হাসপাতাল, অফিস ভেঙে পড়ে বিশাল ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে একাধিক শহর। সেই ধ্বংসস্তূপের তলা থেকেই উদ্ধার (Rescue) করা হয়েছে অসংখ্য জীবিত মানুষকে। উদ্ধার হয়েছে ৫০ হাজারের কাছাকাছি মৃতদেহ। ঘটনার প্রায় ১২ দিনের মাথায় সেখানে বেসরকারি হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার হল ৩৩ বছর বয়সি এক যুবককে।
যুবকের নাম মোস্তাফা আবিসি। ১১ দিন ধরে জল, খাবার না খেয়ে, এমনকী পর্যাপ্ত বাতাস ছাড়া তাঁর পক্ষে বেঁচে থাকা ছিল কার্যত অসম্ভব। কিন্তু টানা জীবনযুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। ওই ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে মোস্তাফা ভেবেছিলেন, ভূমিকম্পের জেরে তাঁর পরিবার হয়তো মারা গেছে। অন্যদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে মোস্তাফার পরিবার ভেবেছিল, সে হয়তো ধ্বংসস্তূপের তলাতেই চিরতরে সমাধিস্ত হয়েছে।
কিন্তু এই দু'টোর কোনওটাই হয়নি। বরং উদ্ধারকারী দলের চেষ্টায় ১২ দিনের মাথায় ওই ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে যুবককে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। উদ্ধারের পর স্ট্রেচারে শুয়েই নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চান যুবক। দেখতে চান সবাই বেঁচে আছে কিনা। এরপর যুবককে তাঁর বাড়ির সদস্যের সঙ্গে ফোনে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বুকে একাধিক ইলেক্ট্রোড, গায়ে থার্মাল কম্বল এবং গলায় কলার লাগানো অবস্থাতেই স্ট্রেচারে শুয়ে ফোনে কথা বলেন তিনি। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যদিও তাঁরা দু'জন কী কথা বলছিল, তা ভাষা সমস্যার কারণে বোঝা যায়নি ঠিকই। তবে গলার স্বর শুনে তাঁদের কথোপকথন খানিক আন্দাজ করা যাচ্ছিল।
প্রথমে মোস্তাফার গলা শুনে তাঁর বাড়ির লোক যেন বিশ্বাসই করতে পারেনি যে সে বেঁচে আছে। মোস্তাফা অনেকক্ষণ ধরে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষে মোস্তাফার কথা বুঝতে পেরে আনন্দে কেঁদে ফেলেন ওই ব্যক্তি। এরপর ওই যুবক তাঁকে বাঁচানোর জন্য উদ্ধারকারী এক সদস্যের হাতে চুমু খান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
‘থরথর করে কাঁপল মাটি, পৃথিবী যেন দু’ভাগ হয়ে যাচ্ছে’, অভিশপ্ত সোমবারেই আতঙ্ক ফিরল তুরস্কে