দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাংবাদিক প্রিয়া রমানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবর। সোমবার ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বেল বন্ডে সেই মামলায় জামিন পেলেন প্রিয়া। তাঁর অভিযোগ, আকবর তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। তারপরে আকবর মানহানির মামলা করেন। তাঁর আইনজীবীরা কোর্টে বলেন, তাঁদের মক্কেলের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিন প্রিয়া পাতিয়ালা হাউস কোর্টে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট সমর বিশালের এজলাসে হাজিরা দেন। আদালত জানায়, মামলার পরের শুনানি হবে ১০ এপ্রিল। প্রিয়া বলেন, ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হবে। তারপর আমি নিজের কথা খুলে বলব। আমি সত্যের পক্ষে আছি।
গতবছর প্রিয়া রমানি বাদে আরও কয়েকজন মহিলা অভিযোগ করেন, আট ও ন’য়ের দশকে সম্পাদক থাকার সময় আকবর তাঁদের যৌন হেনস্তা করেছেন। ওই অভিযোগগুলি যখন ওঠে, ৬৭ বছর বয়সী আকবর তখন আফ্রিকা সফরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, ওই অভিযোগগুলির মোকাবিলা করবেন ব্যক্তিগতভাবে। সরকারকে এর সঙ্গে জড়াতে চান না।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আকবরের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দও তা অনুমোদন করেন। তারপরে আকবরের ১৭ জন প্রাক্তন সহকর্মী প্রিয়া রমানিকে সমর্থন করে বিবৃতি দেন। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, আকবরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরে বিজেপি খুব অস্বস্তিতে পড়ে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব ও নারী অধিকার কর্মীরা একযোগে সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। বিজেপি তার পালটা জবাবে বলেছিল, যখন তিনি যৌন হেনস্তা করেছিলেন বলে অভিযোগ, তখন তিনি বিজেপির সদস্য ছিলেন না।
প্রিয়া রমানি এখন আমেরিকায় থাকেন। তাঁর অভিযোগ, ২৩ বছর আগে জয়পুরের এক হোটেলে আকবর তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। তারপরেও তাঁকে বহুবার নানাভাবে অপদস্থ করেছেন। আকবর পালটা বলেন, এক্ষেত্রে প্রিয়ারও সম্মতি ছিল। কিন্তু প্রিয়ার অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আকবর তাঁকে হেনস্তা করেছেন।
ওই অভিযোগ ওঠের পরে এডিটরস গিল্ড আকবরকে সাসপেন্ড করে। একটি সূত্রে খবর, তখন আরএসএস থেকেও বিজেপিকে বলা হয়েছিল, অল্পদিনের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। এখন দলের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে মুশকিল। তার পরে দল থেকেই আকবরকে ইস্তফা দিতে বলা হয়।