দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮৩০ জন মারা গেছেন আমেরিকায়। তথ্য বলছে, মার্চ মাস থেকে যে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে মার্কিন মুলুকে, তাতে একদিনের মৃতের সংখ্যা ৯০০-র কমে নামল এই দ্বিতীয় বারের জন্য। রবিবার এই সংখ্যাটা ছিল ৭৭৬।
ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, ভারতীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আমেরিকায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৩ লক্ষ ৮৫ হাজারের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৮১ হাজার ৮০০ জন। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন আড়াই লাখের বেশি মানুষ।
মার্কিন মুলুকে অবশ্য করোনাভাইরাসের আগ্রাসী টেস্ট অব্যাহত রয়েছে। চলতি সপ্তাহের হিসেব ধরলে সংখ্যাটা এক কোটি হবে। অর্থাৎ এক কোটি মানুষের কোভিড-১৯ টেস্ট হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। অন্য যেকোনও দেশের তুলনায় দ্বিগুণ টেস্ট হয়েছে এ দেশে।
সোমবার হোয়াইট হাউস থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিন সপ্তাহ আগে পর্যন্ত সাধারণত প্রতিদিন দেড় লক্ষ কোভিড টেস্টের বন্দোবস্ত হয়েছিল। এখন সেটা প্রতিদিন ৩ লক্ষ হয়েছে। করোনায় মৃত্যুমিছিল ও একটানা লকডাউনের ফলে কার্যত থমকে গেছে আমেরিকার অর্থনীতি ও জনজীবন। কিন্তু এবার ধাপে ধাপে লকডাউন খোলার দিকে এগোচ্ছে দেশ। সে জন্যই আরও ব্যাপক হারে করোনাভাইরাসের টেস্ট অবশ্য প্রয়োজনীয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে সোমবারের সাংবাদিক সম্মেলন খানিক খাপছাড়া ভাবেই শেষ হয় হোয়াইট হাউসে। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রশ্নে এক মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে খানিক তর্কবিতর্কই বেঁধে যায় খোদ ট্রাম্পের। চিনা বংশোদ্ভুত ওই সাংবাদিক জিয়াং যখন ট্রাম্পকে বলেন, তিনি কেন প্রায়ই কোভিড মহামারীকে গ্লোবাল রেস বলেনতখন সোজাসুজি সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ওই সাংবাদিককে বলেন, "চিনকে গিয়ে একই প্রশ্ন করুন। চিনের এই রোগে সারা বিশ্বে মানুষ মরছে। তাই চিনকেই আপনার প্রশ্ন করা উচিত। আমায় করবেন না। যখন তাদের এই প্রশ্ন করবেন তখন এর উত্তরও পেয়ে যাবেন। কেন আমাকেই আপনি এই প্রশ্ন করছেন?"
সাংবাদিক তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন, "আপনি আমাকেই কেন বলছেন, চিনকে জিজ্ঞেস করতে।" তিনি নিজে চিনা বংশোদ্ভুত বলে তাঁর দিকে এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত করেন ওই সাংবাদিক। ট্রাম্প অবশ্য উত্তরে বলেন, "আপনাকে একা নয়, যিনিই আমায় এই বিরক্তিকর প্রশ্নটি করবেন, আমি তাঁকেই বলছি। চিনকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন।"
এর পরেও ওই সাংবাদিক আরও প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে হঠাৎ করেই সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।