দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার দিনের শুরুতেই শোনা যায়, কর্ণাটকের কংগ্রেস বিধায়ক আনন্দ সিং পদত্যাগ করেছেন। আরও কয়েকজন বিধায়ক পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও স্পিকার কে আর রমেশ কুমার বলেছিলেন, কেউ ইস্তফা দিয়েছেন বলে তাঁর জানা নেই। অন্যদিকে আনন্দ সিং বলেছিলেন, তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফা জমা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু এদিন সন্ধ্যার আগেই জানা গেল, আনন্দ সিং ও আর এক কংগ্রেস বিধায়ক রমেশ জারকিহোলি স্পিকারের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন।
কর্ণাটকের এক শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা বলেছেন, দুই কংগ্রেস বিধায়কের পদত্যাগ 'শকিং'। কংগ্রেস ও সেকুলার জনতা দল, উভয়েই ভয় পাচ্ছে, তারা 'অপারেশন লোটাস'-এর শিকার হতে পারে। ২০০৮ সালে প্রথম অপারেশন লোটাসের কথা শোনা যায়। অভিযোগ, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা যাতে ক্ষমতায় থাকতে পারেন, সেজন্য বিজেপি কয়েকজন বিরোধী বিধায়ককে দল ভাঙিয়ে নিজেদের দিকে টেনে এনেছিল।
দু'জন ইস্তফা দেওয়ার পরে বিধানসভায় এখন কংগ্রেসের বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৭। ২২৪ সদস্যের বিধানসভায় এখন জেডিএস-কংগ্রেস জোটের বিধায়কের সংখ্যা ১১৪। কর্ণাটকে গরিষ্ঠতা পেতে গেলে চাই ১১৪ টি আসন। বিজেপির আছে ১০৫ টি আসন। বিএসপির একটি ও নির্দল বিধায়কের একটি আসন আছে।
গতবছর রাজ্যে কংগ্রেস-জেডিএস জোটের সরকার গঠনের পর থেকেই তার স্থিতিশীলতা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। ২০১৮ সালের মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পায়নি কেউ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। বি এস ইয়েদুরাপ্পার নেতৃত্বে লড়াই করে বিজেপি পেয়েছিল ১০৪ টি আসন। রাজ্যপাল বাজুভাই বালা ইয়েদুরাপ্পাকে সরকার গড়তে ডাকেন। অভিযোগ ওঠে, বাজুভাই নিজে আরএসএসের লোক বলে তড়িঘড়ি বিজেপিকে ডেকেছেন।
ভোটের আগে কংগ্রেস ও জেডি এস পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। কিন্তু ভোটের পরে তারা জোট গঠন করে। দুই দলের জোট বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করে। যদিও সব সময়ই ভয় ছিল, বিজেপি তাদের কয়েকজন বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিতে পারে। সেজন্য জোটের বিধায়কদের বেঙ্গালুরু থেকে কিছু দূরে, রিসর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সেই রিসর্টেই নাকি আনন্দ সিং-এর সঙ্গে এক বিধায়কের মারামারি হয়। আহত অবস্থায় আনন্দকে হাসপাতালে ভরতি করাতে হয়েছিল। তিনি তখনই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্ব তাঁকে বুঝিয়ে তখনকার মতো দলে থাকতে রাজি করান।
[caption id="attachment_119687" align="alignleft" width="267"]

কুমারস্বামীর শপথের আগে আহত আনন্দ সিং[/caption]
জে ডি এস নেতা এইচ ডি কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণ উপলক্ষে বেঙ্গালুরুতে বিরোধীদের নক্ষত্র সমাবেশ হয়। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, ইউপিএ-র চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী থেকে বিএসপি নেত্রী মায়াবতী, সকলেই উপস্থিত হন। শোনা যায়, আগামী দিনেও বিরোধী ঐক্যের এই মডেল অন্যত্র প্রয়োগ করা হবে। লোকসভা ভোটেও অটুট থাকবে বিজেপি বিরোধী জোট।
সরকার গড়ার পর থেকেই অবশ্য নানা অশান্তি দেখা যায় জোটের মধ্যে। কংগ্রেসের দাবি পূরণ করতে করতে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। একসময় তিনি বলেই ফেলেন, কংগ্রেসকে নিয়ে সরকার চালানো মানে কালসাপ নিয়ে ঘর করা।
এখন কুমারস্বামী ব্যক্তিগত কাজে আমেরিকা গিয়েছেন। দুই বিধায়কের ইস্তফা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
বিজেপি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখছে। ইয়েদুরাপ্পা বলেছেন, কংগ্সরেস-জেডি এস সরকার পড়ে গেলে তাঁরা সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন।