
শেষ আপডেট: 2 February 2023 10:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছর আগে জনজাতি ভোট (Tripura election) নিজেদের দিকে টানতে ত্রিপুরায় আইপিএফটি-র (IPFT) সঙ্গে জোট করেছিল বিজেপি (BJP)। ফলও পেয়েছিল। সিপিএমকে সরিয়ে উত্তর-পূর্বের ছোট্ট রাজ্যটির কুর্সি দখল করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই পাঁচ বছরে আইপিএফটি ক্রমশ ক্ষয়েছে। কার্যত সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে দলটি। এবার বিজেপির জোট শরিক (Ally) দলটি মিশে যেতে পারে ত্রিপুরার নতুন শক্তি হিসেবে মাথা তোলা তিপ্রা মথার (Tipra Motha) সঙ্গে।
আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬০ আসনের ত্রিপুরা বিধানসভায় ভোট (Tripura Election) গ্রহণ সূত্রের খবর, প্রদ্যোতকে আইপিএফটি নেতারা এও জানিয়েছেন, বাম-কংগ্রেসের জোটে সামিল হলেও তাঁদের আপত্তি নেই। তবে বিজেপি নিয়ে ক্ষোভের কথাই তাঁরা বলেছেন বলে খবর।
এ ব্যাপারে শনিবার তিপ্রা মথার সুপ্রিমো, ত্রিপুরা রাজবাড়ির ছেলে প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের সঙ্গে গুয়াহাটিতে বৈঠক করেন আইপিএফটি নেতারা। মূলত তিপ্রা ল্যান্ডের ইস্যুতে সমর্থন জানিয়েই দু’পক্ষের কথাবার্তা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই প্রদ্যোত, আঞ্চলিক শক্তিকে এক জায়গায় করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাতে সাড়া দেয় আইপিএফটি। যদিও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।
আইপিএফটির অনেকে মনে করেন, জোট করে বিজেপি জিতলেও এই পাঁচ বছরে তারা ক্রমশ জনজাতিদের দলটিকে দুর্বল করেছে। গাজর ঝোলানোর মতো কয়েকটি মন্ত্রী দিয়ে রাখলেও স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে দেয়নি গেরুয়া শিবির। তা ছাড়া এর মধ্যে আইপিএফটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুও হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে মৃত্যু হয় ত্রিপুরার মন্ত্রী এনসি দেববর্মারও। অনেকের মতে, আইপিএফটি এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। তাই মহারাজের দলের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
এখন প্রশ্ন হল, তাই যদি শেষ পর্যন্ত হয় তাহলে কী হবে?
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে তিপ্রা মথার একা লড়ার সম্ভাবনাই বেশি। আবার এও ঠিক, একদিক থেকে বাম-কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের কাছে খোলা প্রস্তাব এবং বিজেপির থেকে গোপন প্রস্তাব রয়েছে। মথা যদি বাম-কংগ্রেস জোটের দিকে যায় তাহলে তা বিজেপির জন্য বিপজ্জনক হবে বলেই মত অনেকের। আবার যদি আইপিএফটিকে মিশিয়ে নিয়ে মথা একা লড়ে তাহলে বিজেপিও জনজাতি অঞ্চলে ধাক্কা খাবে বলে মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।
প্রসঙ্গত, বিপ্লব দেব মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই বিজেপির একটি অংশ বলতে শুরু করেছিল ’২৩-এর ভোটে জনজাতি অংশে আসন পাওয়ার বিষয়টি চাপ তৈরি করবে। পাঁচ বছর আগে আইপিএফটির সঙ্গে জোট করানোর পুরোধা ছিলেন সুনীল দেওধর। অভ্যন্তরীণ সমীকরণে তাঁকে বহুকাল ত্রিপুরা থেকে সরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। কিন্তু তারপর যাঁরা গিয়েছেন, বিনোদ সোনকরের মতো নেতাদের সেদিকে নজর দিতে দেখা যায়নি বলেই মত অনেকের।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এবারের ত্রিপুরা ভোটে মথা যে অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে চলেছে তা একবাক্যে মানছেন অনেকেই। কিন্তু বিজেপি একা লড়লে কী হবে সেটাই এখন গেরুয়া শিবিরের চিন্তার বিষয় বলে মত পর্যবেক্ষকদের অনেকের।
ফেডারেশনের জরুরি বৈঠক বাতিল! কেন্দ্রের নির্দেশের পর থমকে ভারতীয় কুস্তি