
শেষ আপডেট: 12 February 2023 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপির হয়ে প্রচার করতে গিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী নানান গরম গরম সংলাপ বলেছিলেন। তা নিয়ে তীব্র বিদ্রুপ কটাক্ষ করেছিলেন তিপ্রা মথা মহারাজা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন। কিন্তু ত্রিপুরার ভোট প্রচারের (Tripura Election Campaign) একেবারে যখন শেষলগ্ন তখন একটা ছবি যেন শাসক বিজেপির জন্য ছোবল হয়ে উঠল।
রবিবার সন্ধ্যায় দেখা গেল আগরতলা শহরের একটি বিধানসভা কেন্দ্র রামনগরে বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পুরুষোত্তম রায় বর্মনের প্রচারের মঞ্চে হাজির হয়ে গিয়েছেন প্রদ্যোত। শুধু তাই নয়। এদিন এই মঞ্চে প্রদ্যোতের পাশে ছিলেন কংগ্রেসের সুদীপ রায় বর্মনও।
রামনগর কেন্দ্রের যিনি বিধায়ক ছিলেন গত পাঁচ বছর তাঁর নাম সুরজিৎ চৌধুরী। ত্রিপুরার রাজনীতি তাঁকে সুনুদা নামেই চেনে। নিজের বিধানসভা এলাকায় তাঁর দাপটও প্রবল। সেখানে বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থীর সমর্থনে প্রদ্যোতের পৌঁছে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ, এই অঞ্চলে ভাল অংশের জনজাতি ভোটারও রয়েছে। যাঁদের মধ্যে তিপ্রা মথা প্রভাব তৈরি করেছে।
এ ব্যাপারে বিজেপির মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, এতদিন গোপনে সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে গোপনে বোঝাপড়া করছিল মথা। আজ তা হাটখোলা হয়ে গেছে।
কম সময়ে তিপ্রা মথা অভাবনীয় ভিত তৈরি করেছে ত্রিপুরার রাজনীতিতে। কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠনের পর কয়েক মাসের মধ্যে স্বশাসিত জেলা পরিষদ ভোটে একক ভাবে ক্ষমতা দখল করেছে মহারাজা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মনের পার্টি।
ইতিমধ্যই দেখা গিয়েছে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী যে আসনে লড়ছেন সেই সাব্রুমে প্রার্থী দেয়নি মথা। তারপর অবশ্য তেমন ভাবে বাম-কংগ্রেসের মঞ্চে দেখা যায়নি তাঁকে। কিন্তু রবিবার যে ফ্রেম রামনগরে তৈরি হল তা হইহই ফেলে দিয়েছে ত্রিপুরার রাজনীতিতে।
সিপিএম-কংগ্রেস জোটে যে জড়তা ছিল তা অনেকটাই কেটেছে গত দশ দিনে। কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অপছন্দ করা বৃন্দা কারাট কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে মিছিলে হেঁটেছেন। সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে গলার শির ফুলিয়ে বক্তৃতা করেchhen প্রয়াত প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্ত্রী দীপা দাশমুন্সি। এমনকি বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বিরোধী লাইনের শিবিরের হিসেবে পরিচিত মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায একের পর এক সভায় বলেছেন, এই জোট অশুভ হল বিজেপির জন্য। ত্রিপুরার ভবিষ্যতের জন্য শুভ।
তবে সিপিএম সমর্থিত নির্দল প্রার্থীর মঞ্চে প্রদ্যোতের যাওয়া ত্রিপুরার রাজনীতিতে কার্যত তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা কত তা স্পষ্ট না হলেও গেরুয়া শিবিরে যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে তা বলছেন অনেকেই।