দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিতর্কিত তিন তালাক বিল আইনে পরিণত হবে কিনা তা বোঝা যাবে সোমবার। এদিন রাজ্যসভায় পেশ হবে ওই বিল। তাতে বলা হয়েছে, তিনবার তালাক শব্দটি উচ্চারণ করে কাউকে তালাক দেওয়া বেআইনি। তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। লোকসভায় বিলটি পাশ হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। এবার বিল নিয়ে বিতর্ক ও ভোটাভুটি হবে রাজ্যসভায়। সেখানে কিন্তু সরকারপক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এখন বিলটি যে অবস্থায় আছে, তা কিছুতেই পাশ হতে দেওয়া যায় না। তাতে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিশানা বানানো হয়েছে। বিলটি ফের খতিয়ে দেখার জন্য জয়েন্ট সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। সোমবার কংগ্রেসের সব সাংসদকে রাজ্যসভায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তিন তালাক বিলটির প্রকৃত নাম ‘দি মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল ২০১৮’। প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেস প্রস্তাব দেয়, বিলটি রাজ্যসভার সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হোক। বিলে আছে, স্বামী বেআইনিভাবে স্ত্রীকে তালাক দিলে তিন বছর জেল হবে। বিরোধীদের মতে, দেওয়ানি মামলায় কাউকে ফৌজদারি ধারায় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। তাছাড়া স্বামী যদি জেলে থাকেন, স্ত্রীকে খোরপোষই বা দেবে কে? সরকার যদি এত কড়া আইন করে তাহলে পরিবারে ভাঙন ঠেকানো মুশকিল হবে।
২০১৭ সালে তিন তালাক বিল বিরোধীদের বাধায় পাশ করানো যায়নি। তারপরে বিরোধীদের কথামতো সরকার বিলে কয়েকটি পরিবর্তন করে। বর্তমান বিলে তিন তালাককে অপরাধ বলা হয়েছে। তাতে স্বামীকে তিন বছরের জেল, জরিমানা ও স্ত্রীকে খোরপোষ পাওয়ার অধিকারিণী বলে গণ্য করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, সুপ্রিম কোর্টই তিন তালাককে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে। সরকারকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে যেন নির্দিষ্ট আইন করা হয়। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানছেন না। এমনকী নবীন পট্টনায়েকের বিজেডি বা তামিলনাড়ুর এডিএমকে, যারা অতীতে নানা ইস্যুতে এনডিএ-র পক্ষে দাড়িয়েছে, তারাও এই বিলের কট্টর বিরোধী।
কংগ্রেসের যুক্তি, সুপ্রিম কোর্ট কোথাও বলেনি যে, তিন তালাককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করতে হবে। গত সপ্তাহে বিলটি যখন লোকসভায় পেশ হয়, তখন ওয়াক আউট করে কংগ্রেস। তাদের সঙ্গে ওয়াক আউট করে এডিএমকে। আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বিলটি লোকসভায় পেশ করেছিলেন। তিনি বলেন, এই বিলের সঙ্গে হাজার হাজার মুসলিম মহিলার জীবন জড়িত। তা নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়।