দ্য ওয়াল ব্যুরো, আগরতলা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরেই জানিয়েছিলেন, দেশের কোণায় কোণায় দলকে পৌঁছে দেওয়া তাঁর লক্ষ্য। এও জানিয়েছিলেন , যে যে রাজ্যে তৃণমূল ইউনিট খুলবে সেখানে সেখানে সরকার গড়ার জন্যই ঝাঁপাবে। চারটে-পাঁচটা বিধায়ক জেতার জন্য নয়।
তখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তৃণমূলের প্রথম টার্গেট কী? ত্রিপুরা? জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, নির্দিষ্ট পরিকল্পনার পরে তিনি তা জানাবেন।
একুশে জুলাইয়ে এবার একাধিক রাজ্যে জায়েন্ট স্ক্রিন টাঙিয়ে দিদির বক্তৃতা শোনানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম উত্তর-পূর্বের বিজেপি শাসিত রাজ্য ত্রিপুরা।
এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় তৃণমূলের তেমন কোনও সংগঠন নেই। তবে একজন রাজ্য সভাপতি রয়েছেন বটে। তিনি আশিষলাল সিংহ। তাঁর বাবা প্রয়াত শচীন্দ্রলাল সিংহ ত্রিপুরার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। আশিষবাবুই জানিয়েছেন, ত্রিপুরার চার জায়গায় জায়ান্ট স্ক্রিন টাঙিয়ে একুশে জুলাই দিদির বক্তৃতা শোনানো হবে।
গতকাল আশিষলাল সিংহকে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তারপর তড়িঘড়ি বৃহস্পতিবারের সকালের বিমানেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রস্তু বৈঠক সারতে আগরতলা থেকে কলকাতায় পৌঁছেছেন তিনি। ত্রিপুরার তৃণমূল সূত্রে খবর, আগরতলার দু’জায়গায়, গোমতী জেলার উদয়পুর এবং রাজ্যের উত্তরপ্রান্তে ধর্মনগরে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে মমতার বক্তৃতা শোনানো হবে একুশে জুলাই।
অসমেও কয়েকটি জায়গায় একুশের বক্তৃতা জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে শোনানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল। যেহেতু ১৯ তারিখ থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু, সেই সময়ে দিল্লিতেই থাকবেন দলের সাংসদরা, তাই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে রাজধানীতেও জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হবে। সেখানে বসেই নেত্রীর বক্তৃতা শুনবেন সাংসদরা। তাছাড়া পাঞ্জাবেও এই ভাবেই জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে মমতার বক্তৃতা শোনানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ নিয়েও ভাবনা রয়েছে বাংলার শাসকদলের নেতৃত্বের।
একুশের ভোটে বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরেই অনেকে বলতে শুরু করেছিলেন, এই ভোট জাতীয় স্তরে মোদী বিরুদ্ধে মুখ হিসেবে মমতার উত্তরণ ঘটিয়ে দিয়েছে। ভারত দিদিকে চায় বলে ডিজিটাল প্রচারও করেছিল তৃণমূল। দেখা গেল, একুশের একুশে জুলাইকেই জাতীয় আঙ্গিকে পৌঁছে দিতে চাইছে তৃণমূল।