
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 February 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা ভোট। দলের নেতা, কর্মীদের কী করতে হবে, বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের মঞ্চ থেকে সেই টাস্ক বেঁধে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। গোষ্ঠী কোন্দলের বিষয়েও সকলকে সতর্ক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)।
তারই মধ্যে ফের সামনে এল শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল (Tmc clash In Minakha)। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় ঘটনাটি ঘটেছে মিনাখাঁর কুলটিতে। ঘটনায় এক মহিলা-সহ আটজন গুরুতর জখম হয়েছেন। এদের মধ্যে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুর রউফ মোল্লা ও তার ছেলে মিলন মোল্লার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে আরজি করে স্থানান্তরিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ব্লক সভাপতি ফরিদ জমাদার ও তৃণমূলের হাড়োয়ার যুব সভাপতি খালেক মোল্লা বনাম মিনাখাঁর বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের অনুগামীদের বিবাদ লেগেই রয়েছে। তারই জেরে হামেশাই সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে গোষ্ঠী রাজনীতি প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন দলনেত্রী। মমতা বলেন, "আমি ফেসবুক, টুইটার সব দেখি। অনেকে বলেন আমি তৃণমূল করি না, প্রতীক চিনি না, আমি অমুক দাদার রাজনীতি করি। এসব আমি নজর করি। প্রতীক না থাকলে আপনি কাউন্সিলর, বিধায়ক, সাংসদ কিছুই হতে পারতেন না। আপনার যদি কেউ নেতা হয় তাহলে সেটা হল জোড়াফুল।"
আক্রান্ত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য আব্দুর রউফ মোল্লা জানিয়েছেন, তিনি ব্লক সভাপতি ফরিদ জমাদার ও তৃণমূলের হাড়োয়ার যুব সভাপতি খালেক মোল্লার অনুগামী। বৃহস্পতিবার সন্ধে সাড়ে ছটা নাগাদ কুলটি এলাকায় কর্মীদের সঙ্গে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। সে সময় বিধায়কের স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতী হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠি সোটা নিয়ে তাদের উপরে হামলা চালায়।
পাল্টা প্রতিরোধের চেষ্টাও হয়। তাতে দু'পক্ষের আটজন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারন করে যে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হাড়োয়া থানার পুলিশকে আসতে হয় ঘটনাস্থলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে বিধায়কের স্বামী মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলের দাবি, "এর মধ্যে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।"
অন্যদিকে এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে হাড়োয়া ও মিনাখাঁ বিধানসভায় অবিলম্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে বিজেপি। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, এখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামেশাই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা জরুরি।