গৌতমী সেনগুপ্ত: এই চক্ষুদান চোখ খুলে তাকাবারও, মায়ের চোখ আঁকতে আঁকতে সেই অনুভুতিই ফুটে ওঠে মেঘ সায়ন্তনীর চোখে মুখে। রূপান্তরকামী মহিলা সায়ন্তনীর তুলির টানে তৃতীয় চোখ পেলেন যোধপুর পার্কের মা দুর্গা। মায়ের চক্ষুদানে চোখ খুলুক সমাজেরও , ঠিক এই বার্তা দিতেই মা দুর্গার চক্ষুদান রূপান্তরকামীকে দিয়ে করানোর সিদ্ধান্ত নেয় যোধপুর পার্ক পুজো কমিটি। চক্ষুদানের আমন্ত্রণ পান দেশের প্রথম রূপান্তরকামী মহিলা আইনজীবী মেঘ সায়ন্তনী ঘোষ।জীবনের অনেক লড়াই তিনি জিতেছেন, আবার হেরেওছেন।তবে, মায়ের চক্ষুদানের অনুভূতি তাঁর কাছে একেবারেই অন্যরকম। দ্য ওয়ালের সঙ্গে সেই অনুভূতিই ভাগ করে নিলেন সায়ন্তনী।

নীল শাড়ির সঙ্গে মানানসই সাজে সায়ন্তনী ছিলেন বেশ রঙিন। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড়ো পুজো যোধপুর পার্কের পুজো। মঙ্গলবার সেই পুজোরই উদ্বোধন করলেন সায়ন্তনী। মায়ের তৃতীয় চোখ এঁকে ফেললেন নানা আবেগের রং দিয়ে। কয়েক বছর আগেও শাড়ি পড়ে গেলে পাড়ার লোকেরা গালিগালাজ করত, সেই লড়াই জিতে সায়ন্তনী এখন চোখ খুলে তাকাবার নাম, যে নাম অনেক সায়ন্তনীর মনের কথা বলে, তাদের লড়ার শক্তি দেয়। তাই যোধপুর পার্ক পুজো কমিটির এই উদ্যোগে সায়ন্তনী আবেগে ভাসলেন। দ্য ওয়ালকে জানালেন, মায়ের চোখ আকার সময় মনে হচ্ছিল মা যেন তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন।দেবীপক্ষের সূচনায় এর চেয়ে বড় পাওনা আর নেই।
যোধপুর পার্ক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজো এবার ৩৩ বছরে পড়ল। পুজোর কমিটির উদ্দেশ্য ছিল, সামাজিক বার্তা দিয়েই হোক পুজোর উদ্বোধন।সেই মতোই শুরু হয় পরিকল্পনা, যা শহরজুড়েই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
আর সায়ন্তনী... পুজোর কটাদিন তাঁর যে দম ফেলার সময় নেই। বেশ কয়েকটি পুজোয় সায়ন্তনী তাঁর দল নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করবেন। প্রস্তুতি তুঙ্গে।তবে এর মাঝেই সায়ন্তনীর প্রশ্ন, মা দুর্গার আগমন আনন্দের, সেই আনন্দ সবার, তাহলে কি এই পুজোয় সমাজের "ভদ্র" মানুষরা একটু গা ঝাড়া দিয়ে উঠবেন? লিঙ্গ বৈষম্য কাটিয়ে পুজোয় কি সবার সঙ্গেই ঢাকের তালে কোমড় দোলাবেন?