এই ঘটনার পর আবারও নতুন করে উঠে আসছে হাতি করিডরগুলিতে রেল চলাচল নিয়ে প্রশ্ন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 28 September 2025 08:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডুয়ার্সের (Duars) জঙ্গলপথে ফের অল্পের জন্য রক্ষা পেল হাতির দল (Elephant) বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে ছুটে চলা রেললাইনে মাঝরাতে আচমকা উঠে এল হাতির দল। তবে ট্রেন চালকদের দ্রুত তৎপরতায় এড়ানো গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। শুক্রবার রাতে চালসা ও নাগরাকাটা সেকশনের মাঝে টানা দু’বার এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল যাত্রী ও রেলকর্মীরা।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫৪৮৪ আপ মহানন্দা এক্সপ্রেস ওই সময় ওই সেকশনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎই পাশের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে একাধিক হাতি। ট্রেনের একেবারে সামনে তাদের দেখে সঙ্গে সঙ্গে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন চালক মুকেশ কুমার এবং সহকারী চালক আর কে মাহাত। মুহূর্তে দাঁড়িয়ে যায় ট্রেন। তাঁদের এই সতর্কতার জেরেই হাতিদের প্রাণহানি ঘটেনি। প্রায় ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকার পর ট্রেনটি ফের যাত্রা শুরু করে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ওই ঘটনার অল্প সময় পরেই একই এলাকায় ফের ট্রেনের সামনে পড়ে যায় আরও একটি হাতির দল। এবারও বিপদের মুখে পড়ে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস। তবে চালক সুজিত কুমার সিং ও সহকারী রণজিৎ কুমার সজাগ থাকায় আবারও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তাঁরা দ্রুত গতি কমিয়ে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেন থামিয়ে দেন। হাতিরা নিরাপদে রেললাইন পার হওয়ার পর আবার ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর আবারও নতুন করে উঠে আসছে হাতি করিডরগুলিতে রেল চলাচল নিয়ে প্রশ্ন। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমী ও বনকর্মীদের মতে, হাতিদের যাতায়াতের জায়গা দিয়ে দিনে দিনে রেল চলাচল বাড়ায় ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগেই কালিম্পং জেলার মংপং জঙ্গলের কাছে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল একটি হস্তিশাবকের। ওই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছিল বনপ্রেমীদের মধ্যে।
পর পর দুটি দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও আশঙ্কা কাটছে না। বন দফতরের দাবি, রাতে হাতির দল প্রায়শই খাবারের খোঁজে রেললাইনের কাছাকাছি চলে আসে। তাই এইসব এলাকায় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও চালকদের সতর্ক নজরদারি বজায় রাখার কোনও বিকল্প নেই।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, হাতি করিডর চিহ্নিত এলাকায় আগেই সতর্কতা জারি রয়েছে। চালকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার রাতের ঘটনায় চালকদের দক্ষতা ও তৎপরতা হাতিদের বাঁচিয়েছে। তবে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে, শুধু চালকের সজাগতা নয়, রেল কি আরও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেবে? যেমন সেন্সর বা অ্যালার্ম বসানো—যা আগেভাগেই ট্রেন চালকদের সতর্ক করতে পারে।