
শেষ আপডেট: 14 December 2023 11:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাতভর কাজ করে রেলকর্মীরা জলের ট্যাঙ্ক ও শেডের ভাঙা অংশ সরিয়ে ফেলেছে। বর্ধমান স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। তবে এখনও বর্ধমান স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাঙ্কের অবশিষ্ট অংশও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার বর্ধমান স্টেশনে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার ঘটনায় জখম ৩৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানান হাসপাতালের সুপার তাপসকুমার ঘোষ।
নির্মাণ কর্মী রানা শেঠ বলেন, “দুর্ঘটনার পরেও রেল প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। এখনও যে ভাবে ভেঙে পড়া জলের ট্যাঙ্কের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, তাতে ভয় হচ্ছে আবার না ওই অংশ ভেঙে পড়ে। একই কথা বলেন ট্রেন যাত্রী সমরেশ মজুমদার। তিনি বলেন, “তিন বছর আগে রেলের মূল প্রবেশপথের উপরের ঝুল বারান্দা ভেঙে পড়ে। তারপরও রেল প্রশাসন চূড়ান্ত উদাসীন। বুধবারের দুর্ঘটনা তারই প্রমাণ।”
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে লোকাল ট্রেন ও মেল এক্সপ্রেস সব ট্রেনই চলাচল করছে। ট্রেন চলাচল একেবারে স্বাভাবিক বলে জানান পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র। তিনি বলেন, “তিনজন সিনিয়র আধিকারিকের একটি কমিটি জল ট্যাঙ্ক দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তিনদিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা।”
বুধবার দুপুরে বর্ধমান স্টেশনের ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মধ্যে থাকা জলের ট্যাঙ্কটি হঠাৎই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা শেডের উপর। তখন বহু যাত্রী হাওড়া মজফ্ফরপুর এক্সপ্রেস ধরার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। দুর্ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বহু মানুষ। দুর্ঘটনার পরই হাওড়ার দিকে ২ ও ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থাকা চলমান সিঁড়ি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারও তা বন্ধ আছে। পাশাপাশি ভেঙে পড়া জল ট্যাঙ্কের নীচের অংশ ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে।