
ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের পাশ দিয়ে চলল ট্রেন
শেষ আপডেট: 18 June 2024 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওই লাইনের পাশ দিয়ে চালানো হল যাত্রীবাহী ট্রেন। সোমবার দুর্ঘটনার পর দুপুর থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে কাজ করা শুরু হয়েছিল। তবে সারাদিন আপ বা ডাউন লাইনে কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হয়নি। মঙ্গলবার আপ লাইনে চলল কামাক্ষ্যা গান্ধীধাম এক্সপ্রেস। খুব ধীর গতিতেই সেই ট্রেনটিকে পাস করানো হয়েছে দুর্ঘটনাস্থলের পাশের লাইন দিয়ে।
সোমবার ট্রেন দুর্ঘটনার পর থেকে কিছু ট্রেনের রুট বদল এবং কয়েকটি ট্রেন বাতিল করেছিল রেল। তবে জানানো হয়েছিল, ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে কাজ শুরু হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে আপ-ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু করা যেতে পারে। তবে স্বাভাবিকভাবেই সোমবার কোনও যাত্রীবাহী ট্রেন বা মালগাড়ি চলেনি ওই লাইনে। মঙ্গলবার আপ লাইনে ট্রেন চলায় আশা করা হচ্ছে দ্রুতই ডাউন লাইনেও ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে।
এক বছর আগের করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে এই কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানায়নি রেল। জানা গেছে, এনজেপি ছাড়ার পরে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ছুটছিল ট্রেন। রাঙাপানির কাছাকাছি এসে কিছুক্ষণের জন্য ট্রেন দাঁড়িয়ে যায়। তখনই পিছন থেকে ধাক্কা মারে মালগাড়ি। এই ঘটনায় ‘টিএ ৯১২’ অর্থাৎ ম্যানুয়াল মেমো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, এই কাগজেই উল্লেখ ছিল কোন কোন সিগন্যাল ভেঙে গাড়ি চালাতে পারবেন চালক। মালগাড়ি এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক দুজনের কাছেই ছিল এই কাগজ। তা সত্ত্বেও কীভাবে এই দুর্ঘটনা, তা বোঝা যাচ্ছে না। দু'টি ট্রেনের কাছেই যদি থেকে থাকে এই কাগজে লেখা অনুমতি এবং তারা তা মেনেই চালিয়ে থাকেন, তাহলে দুর্ঘটনার দায় কার, এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।
এও জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রাঙাপানি এবং আলুয়াবাড়ির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ‘অকেজো’ ছিল! তাই ধীর গতিতে চলছিল দু'টি ট্রেন। তারপরেও এই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় টিএ-৯১২ ফর্মের সমস্ত নিয়ম চালকরা মেনেছিলেন কিনা, সেটা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেছে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। এখনও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাই আতঙ্ক এখনই কমছে না।