দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিন ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় ঝুলছিল সে। নড়াচড়া করতে পারেনি, কিছু খায়ওনি। আর কয়েক ঘণ্টা এভাবে থাকলে হয়তো প্রাণই থাকত না। কিন্তু অবশ্যম্ভাবী সে করুণ পরিণতি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হল সাউথ ট্রাফিক গার্ডের কর্তব্যরত দুই সার্জেন্ট ওয়াসিম বারি এবং দীপ্তিময় ঘোষের তৎপরতায়। গুরুতর জখম একটি চিলকে উদ্ধার করে বন দফতরের হাতে তুলে দিলেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্কস্ট্রিটের অ্যালেন পার্কের কাছে ঘটনাটি ঘটে। ঘুড়ির মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় ডানা কেটে যায় একটি চিলের। কোথায় কীভাবে কেটেছে, তা জানা যায়নি, তবে সে এসে আশ্রয় অ্যালেন পার্কের উল্টোদিকের বটগাছে। তাকে ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখেন অনেকেই।
ওয়াসিম এবং দিপ্তীমানের চোখে পড়ার পরেই তাঁরা সক্রিয় হন। ততক্ষণে গাছ থেকে নীচে পড়ে গেছে সেটি। একেবারেই নেতিয়ে পড়েছে, কিছুই খাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য ভেটরেনারি হাসপাতালে যোগাযোগও করেন ওয়াসিম। খবর দেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতেও। সাহায্য না মেলায় শেষে বন দফতকে জানানো হয় সবটা, তাঁরা এসে নিয়ে যান চিলটিকে। দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয় জখম চিলটির।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল থেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় বটগাছে ঝুলছিল চিলটি। ডানায় জড়িয়ে ছিল চিনা মাঞ্জা সুতো। তখন চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে গাছ থেকে পড়ে যায় চিলটি। তার পরে তার গা থেকে ধারালো সুতো ছাড়ানো হয়। খেতে দেওয়া হয়, কিন্তু নেতিয়ে পড়ার কারণে কিছুই খেতে পারেনি সে।
ওয়াসিম বারি জানান, অনেকটা রক্ত পড়ায় প্রায় শেষ অবস্থা তার। তার ওপরে বৃষ্টিতে একটানা ভিজে থরথর করে কাঁপছে চিলটি। ডানায় গভীর ক্ষত। ওয়াসিম চেষ্টা করার পরে শেষমেশ বন দফতরের কর্মীরা এসে উদ্ধার করেন চিলটিকে। সল্টলেকের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।