
শেষ আপডেট: 8 October 2023 09:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বোলপুর: উপাসনা গৃহের সামনের রাস্তা ফের নিজেদের দখলে পাওয়ার জন্য সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তবে রাজ্যের সঙ্গে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক থাকা সেই উপাচার্যের চিঠির জবাব মমতা দেননি। তবে রাজ্যের তরফে কোনওরকম নির্দেশিকা আসার আগেই এখনও রাজ্য সরকারের আয়ত্তে থাকা রাস্তার উপর ‘দাদাগিরি’ করার অভিযোগ উঠল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। শনিবার এই নিয়ে জোর বিবাদ বাঁধল সেখানে।
সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরের দিকে পর্যটকদের নিয়ে একটি টোটো ওই রাস্তায় ঢুকেছিল। তাঁদের গন্তব্য ছিল রবীন্দ্র ভবন। অভিযোগ, উপাসনা গৃহ সংলগ্ন ওই রাস্তায় ঢুকতেই টোটোটিকে আটকে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কেন আটকানো হল জানতে চাওয়ায় তাঁরা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ। কিন্তু সরকারি রাস্তায় কেন টোটো ঢুকতে দেওয়া হবে না, সেই নিয়ে প্রশ্ন করা হলেই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। শেষে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশও। তাঁরাই পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে।
২০১৭ সালে উপাসনা গৃহের সামনের এই সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার দায়িত্ব বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এবং আশ্রমিকদের অনুরোধে ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ফের সেই রাস্তা নিজেদের দখলে ফিরিয়ে আনে রাজ্য সরকার। এদিকে গত মাসে ইউনেস্কোর তরফে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই সেই রাস্তা ফের নিজেদের আয়ত্তে আনতে মরিয়া বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
এরপরই উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে দু’বার সেই রাস্তা ফেরানোর দাবি জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। আবার রাস্তায় ফেরানোর প্রয়োজন নেই বলে আশ্রমিক ও প্রাক্তনীরাও পাল্টা চিঠি দেন। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীও বিশ্বভারতীকে এখনও সেই চিঠিগুলির জবাব দেননি। কিন্তু তার আগেই শনিবার নিরাপত্তারক্ষীরা যেভাবে পর্যটকদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করল, তাতে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে বলাই চলে। এই ঘটনার জেরে শান্তিনিকেতনের টোটো চালকরা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।