দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরেই ভারত ঘোষণা করেছিল, পাকিস্তানকে যাতে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে করা যায়, সেজন্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে জঙ্গি যোগের কথা প্রমাণ করতে গোয়েন্দারা উপযুক্ত তথ্যও সংগ্রহ করেছেন। শনিবার সেই সব তথ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যাবতীয় প্রমাণ তুলে দেওয়া হবে দি ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের হাতে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই সংস্থাটি গঠিত। সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের উৎস বন্ধ করাই ওই সংস্থার কাজ। ভারত তাদের সামনে প্রমাণ করতে চায়, জঙ্গি সংগঠন জইশ ই মহম্মদকে নিয়মিত সাহায্য করে পাকিস্তান। জইশ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার পাকিস্তানে প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়ান।
এদিন যে গোয়েন্দা কর্তারা রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিক্যাল উইং-এর প্রধান অনিল ধাসমানা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র সচিব রাজীব গাউবা, ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান রাজীব জৈন।
একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গোয়েন্দা কর্তারা রাজনাথ সিংকে বলেছেন, সিআরপিএফের কনভয়ে হামলার পরেই একটি ভিডিওতে আদিল আহমেদকে দেখা গিয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ করেছিল জইশ জঙ্গিরা। তা থেকে বোঝা যায়, ২২ বছরের আদিল জইশের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। আদিল আহমেদকে যে ট্রেনিং দিয়েছিল, সে এখন কাশ্মীরেই লুকিয়ে আছে বলে জানা যায়। তাকে খুঁজছে নিরাপত্তারক্ষীরা।
দি ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স সংস্থাটির সদর দফতর প্যারিসে। আগামী সপ্তাহেই ওই সংস্থার বৈঠক আছে। সেখানে ভারত দাবি জানাবে, পাকিস্তানকে কালো তালিকাভূক্ত করা হোক। কোনও দেশ ওই সংস্থার কালো তালিকাভূক্ত হওয়ার অর্থ, তারা সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক মহলকে সাহায্য করছে না। সেক্ষেত্রে আইএমএফ, এডিবি বা বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পেতে সেই দেশের সমস্যা হতে পারে। পাকিস্তান এখন এমনিতেই আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। গত বছর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন পরেই ইমরান খান আরব দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে আর্থিক সাহায্য মিলেছে সামান্যই।
পাকিস্তান ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছে। আগামী দিনে তাদের আরও বেশি ঋণ প্রয়োজন হবে। ভারত চাইছে, পাকিস্তানের ঋণ পাওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে।