দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপত্যকায় জইশের মাথা হয়ে বসেছিল সে। যে কোনও নাশকতার নিপুণ ছক কষা থেকে যুব সমাজকে জঙ্গি গোষ্ঠীতে টেনে আনা, এই সবই হতো এই জইশ কম্যান্ডারের অঙ্গুলি হেলনে। বারামুলার বনিয়ার এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে লুকমান নিকেশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনা। তার সঙ্গেই খতম হয়েছে আরও কয়েকজন জইশ জঙ্গি।
শনিবার সকাল থেকেই বনিয়ারের বুজথালান এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ দিন ওই এলাকায় জঙ্গি নিধন অভিযানে নেমেছিল জম্মু-কাশ্মীর লাইট ইনফ্যানট্রি, সিআরপিএফ ও রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টিম। দিনভর চলে গুলির লড়াই। সেনা সূত্রে খবর, বুজথালানের নানা জায়গায় ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে জইশ জঙ্গিরা। এ দিনের এনকাউন্টারে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে খতম করা সম্ভব হয়েছে। সেনার দাবি, সংঘর্ষে প্রাণ গেছে তাদের কম্যান্ডার লুকমানের।
পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম মুখ ছিল লুকমান। ২০১৭ সালে নিয়ন্ত্রণ রেখা ভারতে প্রবেশ করে। খালিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল লুকমানের। পুলওয়ামা এনকাউন্টারে গত মাসেই খালিদকে খতম করে সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে দক্ষিণ কাশ্মীরে অপারেশন চালালেও, পরে উত্তর কাশ্মীরে জইশের শীর্ষ কম্যান্ডার হয়ে বসে লুকমান।
সেনা সূত্রে খবর, ইদানীংকালে উত্তর কাশ্মীরের নানা জায়গায় ঘাঁটি বদলে থাকছিল লুকমান। বিশেষত জঙ্গলে ঘেরা এলাকা ছিল তার প্রশিক্ষণের মূল জায়গা। উপত্যকার তরুণ সমাজকেও জঙ্গি কার্যকলাপে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করত সে। পাকিস্তানের জইশ গোষ্ঠী থেকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ হতো তার কাছে।
১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ জইশ হামলার পর উপত্যকা জুড়েই ধরপাকড় শুরু করেছে সেনা ও এনআইএ। গত এপ্রিলেই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-এ-ইসলামির স্টুডেট উইং-এর মাথা হিলাল আহমেদ মান্টোকে পাকড়াও করে এনআইয়ের গোয়েন্দারা। পঞ্জাবের বাটিন্ডার সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র মান্টো ছিল বানিহালে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের অন্যতম চক্রী।