দ্য ওয়াল ব্যুরো : টুলকিট মামলায় গত রবিবার গ্রেফতার হয়েছেন বেঙ্গালুরুর পরিবেশকর্মী দিশা রবি। তাঁর সহযোগী পরিবেশকর্মী তথা আইনজীবী নিকিতা জ্যাকবের বিরুদ্ধেও মামলা করেছিল দিল্লি পুলিশ। বুধবার মুম্বই হাইকোর্ট তাঁকে তিন সপ্তাহের ট্রানজিট জামিন দিয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে তিনি ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জামিন ও একই অঙ্কের সিওরিটি দিয়ে মুক্তি পাবেন।
সোমবার দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করে, দিশা রবি এবং মহারাষ্ট্রের ইঞ্জিনিয়ার শান্তনু মুলুকের সঙ্গে যৌথভাবে নিকিতা একটি টুলকিট তৈরি করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। তিনজনের সঙ্গে খলিস্তানিদের যোগ ছিল। মঙ্গলবার নিকিতা আদালতে বলেন, টুলকিট তৈরি করেছিল 'এক্সটিংকশন রেবেলিয়ন' নামে এক সংস্থা। দিল্লির কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরি করাই ওই টুলকিটের উদ্দেশ্য ছিল।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিল্লি পুলিশ জানায়, প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলের আগের দিন জুম মিটিংয়ে কথাবার্তা হয়েছিল দিশা রবি, নিকিতা জ্যাকব, শান্তনু মুলুক সহ বাকি অভিযুক্তদের। কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে ইন্টারনেটে প্রচার চালিয়েছিলেন ওই তিনজন। নিজেদের মধ্যে তাঁরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলেও দাবি পুলিশের।
কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে গ্রেটা থুনবার্গের পোস্ট করা ‘টুলকিট’ নেট মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন ‘ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার ইন্ডিয়া’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দিশা। বিশ্ব জুড়ে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানানো হয়েছিল ওই টুলকিটের মাধ্যমেই। এর পরেই বেঙ্গালুরু থেকে ২১ বছরের সমাজকর্মী দিশাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশের সাইবার অপরাধদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, ভারতে ওই টুলকিটের পরিচালনা করছিলেন দিশা। নেট মাধ্যমে ওই টুলকিটের মাধ্যমেই কৃষক আন্দোলনের প্রচার চালাচ্ছিলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষকদের আন্দোলন চলছে ৮০ দিনের বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ১১ বার বৈঠকে বসেছেন কৃষক নেতারা। তাতেও কোনও সমাধান হয়নি।
দিশা রবির গ্রেফতারির পরে এমনিতেই অস্বস্তিতে দিল্লি পুলিশ। সমাজকর্মী দিশার মুক্তিতে দাবিতে সরব পড়ুয়া, সঙ্গীতশিল্পী সহ দিল্লির বিশিষ্টজনেদের একাংশ। এমনকি দিশার মুক্তি চেয়ে সরব হয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভাইঝি মিনা হ্যারিসও। প্রশ্ন উঠেছে, ভারতে আন্দোলনকারীদেরই বারে বারে টার্গেট করা হয়। বাকস্বাধীনতার অধিকার খর্ব করছে পুলিশ-প্রশাসন। দিশা রবির গ্রেফতারির নিন্দা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালও। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা হচ্ছে। দিশার গ্রেফতারি গণতন্ত্রের উপর অপ্রত্যাশিত হামলা।