দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি (charanjeet singh channi)। বৈঠকের পরে তিনি বলেন, অমিত শাহের কাছে দু'টি দাবি জানিয়েছেন। প্রথমত, তিনটি কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধ করার জন্য সিল করে দিতে হবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। একইসঙ্গে চান্নি জানান, "আমি অমিত শাহকে বলেছি, উত্তরপ্রদেশে যেভাবে কৃষকদের ওপরে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, আমরা তা মানব না।"
সোমবার লখিমপুর খেরিতে যেতে চেষ্টা করেছিলেন চান্নি। কিন্তু পুলিশ তাঁকে অনুমতি দেয়নি। লখিমপুর যাওয়ার পথে হরিয়ানা-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে আটক করা হয়েছে পাঞ্জাবের উপমুখ্যমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া এবং আরও কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ককে।
সোমবার ভোরে লখিমপুর খেরিতে যাওয়ার চেষ্টা করেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু পুলিশ তাঁকে আটক করে। এদিন সীতাপুর গেস্ট হাউসে রাখা হয় তাঁকে। মঙ্গলবার প্রিয়ঙ্কা গেস্ট হাউস থেকেই কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আর কিছুদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী আসছেন লখনউতে। সেখানে তিনি 'আজাদি কা অমৃত মহোৎসব' উৎসবে অংশ নেবেন। এই প্রসঙ্গে প্রিয়ঙ্কা বলেন, মোদীজি স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে আসছেন। কিন্তু কীসের স্বাধীনতা? কারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে?
পরে কংগ্রেস নেত্রী বলেন, কৃষকরা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে। অভিযুক্ত মন্ত্রীকে বরখাস্ত না করে আপনি কীভাবে স্বাধীনতা দিবসের উৎসবে অংশ নিতে পারেন? এর পরেই প্রিয়ঙ্কা বলেন, মোদীজি, আপনি কি লখিমপুর খেরিতে যাবেন?
অভিযোগ, রবিবার লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয়কুমার মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের গাড়ি কৃষকদের ধাক্কা মেরেছিল। ওই ঘটনায় চার কৃষক সহ আটজন নিহত হন।
রবিবার কৃষকরা মৃতদেহগুলির সৎকার করেননি। তাঁরা দেহগুলি ঘিরে সারা রাত বিক্ষোভ দেখান। সোমবার সকালে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসে পুলিশ। সরকার প্রতিশ্রুতি দেয়, মৃতদের পরিবারগুলিকে ৪৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাবেন ১০ লক্ষ টাকা করে। এই প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পরে আন্দোলন তুলে নেন কৃষকরা। মৃত চার কৃষকের শেষকৃত্য করার প্রস্তুতি শুরু হয়।
মঙ্গলবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে মন্ত্রী অজয়কুমার মিশ্র বলেন, যে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলটি চাষিদের চাপা দিয়েছিল, সেটি তাঁর ছেলেই ব্যবহার করেন। তবে চাষিদের চাপা দেওয়ার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না।