
শেষ আপডেট: 20 May 2023 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ সিনেমার বিষয় বস্তু নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি, যে ছবির প্রতিপাদ্য হল হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। এই কাহিনি নিয়ে বিতর্ক, বাদানুবাদের মধ্যেই একটি অনুষ্ঠানে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা মহিলাদের হাতে ‘কাটারস’ তুলে দিল (Gujrat women are provided weapons)। যাতে লাভ জিহাদের (stop love jihaad) ফাঁদে ফেলার চেষ্টা হলে হিন্দু মহিলারা আক্রমণকারীদের অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আত্মরক্ষা করতে পারেন।
গুজরাতিতে চাকুকে বলা হয় কাটারস। ঘটনাটিও গুজরাতের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যের কচ্ছ জেলার এই ঘটনা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে কচ্ছ কাড়ভা পতিদার সমাজ মহিলাদের জন্য তিনদিনের প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছিল। তাতে যোগ দেন জেরার সাতশো মহিলা। তাদের শেখানো হয় জোর করে ধর্মান্তকরণ, প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা হলে কীভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। প্রশিক্ষণ শেষে ইচ্ছুক ৫৩০ জনের হাতে কাটারস তুলে দেয় উদ্যোক্তারা। বলা হয় আত্মরক্ষার জন্যই এই আয়োজন।
যদিও ভারতীয় ফৌজদারী দণ্ডবিধি অনুযায়ী এই ধরনের অস্ত্র সঙ্গে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। একমাত্র শিখ ধর্মাবলম্বীদের শর্ত সাপেক্ষে সঙ্গে ছোট্ট কৃপাণ রাখার অনুমতি আছে।
গুজরাতের অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক-সহ গেরুয়া শিবিরের অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তবে অনুষ্ঠান আলো করে ছিলেন কাজল শিঙ্গালা ওরফে কাজল হিন্দুস্থানী। কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই নেতাকে মাস কয়েক আগেই ঘৃণা ভাষণের অপরাধে পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে জামিনে মুক্ত। তাঁর হাত দিয়েই তুলে দেওয়া চাকু।
ঘৃণা এবং হিংসা ছড়ানোর ঘটনা জানা মাত্র ব্যবস্থা নিতে হবে, অভিযোগে অপেক্ষায় থাকা চলবে না বলে দিন দশ আগেই সুপ্রিম কোর্ট সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলকে সতর্ক করেছে। কচ্ছের প্রশিক্ষণ শিবির এবং মহিলাদের অস্ত্র দেওয়ার খবর চাপা ছিল না। উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তারপরও পুলিশ হাত গুটিয়ে ছিল। ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে কচ্ছ পুলিশ বলেছে তারা এমন প্রশিক্ষণ শিবিরের বিষয়ে অবগত নয়। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।