
পুজো কমিটির দখলদারি নিয়ে ব্যারাকপুরে মৃত্যু তৃণমূল কর্মীর
শেষ আপডেট: 8 July 2024 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো কমিটির দখল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে শুরু হয় বচসা-হাতাহাতি। মারধরের চোটে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্যারাকপুরের মর্মান্তিক ঘটনাটিতে অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে।
মৃতের নাম পার্থ চৌধুরী। ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে ব্যারাকপুরের ওল্ড ক্যালকাটা রোডের সুকান্তপল্লী এলাকায়। মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী সেখানকার একটি ক্লাবের সদস্যা। এদিন সন্ধেবেলা ওই ক্লাবের দুর্গাপূজার কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক ছিল। অভিযোগ, পুজো কমিটির দখল নেওয়ার জন্য স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর মৌসুমি মুখোপাধ্যায়, তাঁর দলবল নিয়ে বৈঠকে হাজির হন। সেখানেই প্রথমেই বচসা এবং তারপর হাতাহাতি শুরু হয়। স্ত্রী ক্লাবে আটকে রয়েছে খবর পেয়ে সেখানে আসেন পার্থ। এরপর ক্লাবের দরজা বন্ধ করে বছর ৪৩-এর পার্থকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এনিয়ে রবিবার রাতেই ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর।
পাল্টা কাউন্সিলর দাবি করেছেন, ক্লাবের বৈঠকে ছিলেন না পার্থ। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে মিটিংয়ের কোনও যোগসূত্র নেই। এদিকে সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় রিকসা থেকে নেমে খানিকটা যাওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন পার্থ। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও কাউন্সিলরের অনুগামীদের মারধরেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন পার্থর স্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রচণ্ড মারধরের ফলে অচৈতন্য হয়ে পড়েন পার্থ। তড়িঘড়ি তাঁকে ব্যারাকপুর বিএন বসু মহাকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ব্যারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস।
ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ক্লাবের বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।