
শেষ আপডেট: 7 September 2023 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১oo দিনের বকেয়া টাকা আদায়ে আগামী ২ অক্টোবর দিল্লিতে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লির রামলীলা ময়দানে ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ রামলীলা ময়দানে সভার অনুমতি দেয়নি। এরপরই রামলীলা ময়দানের পরিবর্তে দিল্লির আরও তিনটি জায়গায় ধর্নার অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠাল তৃণমূল (Tmc counter strategy to hold 100-day dharna program in Delhi)।
ইতিমধ্যেই অবিজেপি দলগুলিকে নিয়ে সর্বভারতীয়স্তরে ইন্ডিয়া জোট গঠিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার অভিযোগে আরও বেশি করে সরব হতে পারে ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার এবিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে এনেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেত্রী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এ কেমন শাসন? ১০০ দিনের কাজ করেও মানুষ তাঁর প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত। কেন্দ্র মানুষের পাওনা টাকা দিচ্ছে না। আবার মানুষের আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকারও কেড়ে নিতে চাইছে। আমরা আইনি পথেই অনুমতি চেয়েছি। তবে বিজেপি যদি ভাবে দিল্লি পুলিশ দিয়ে তৃণমূলের আন্দোলন রুখে দেবে, তাহলে ভুল করছে। এভাবে তৃণমূলের আন্দোলন আটকানো যাবে না।”
একশ দিনের কাজ, আবাস যোজনা সহ বাংলার অধিকারের টাকা আদায় করতে ২ অক্টোবর দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছিলেন অভিষেক। গত একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee on 21st July) দাবি করেছিলেন, বাংলার ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রের সরকার। সেই টাকা উদ্ধার করতে তিনটি রাস্তা রয়েছে। দিল্লির কাছে আবেদন করা, পায়ে পড়া, নইলে অধিকার ছিনিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করা। প্রথমটা তৃণমূল করেছে। কিন্তু হকের টাকা উদ্ধারের জন্য কারও পায়ে পড়বে না।
এরপরই ২ অক্টোবর ‘দিল্লি চলোর’ ডাক দিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে অভিষেকের ওই কর্মসূচি সফল করতে তৃণমূলের অন্দরে প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। বছর ঘুরলেই লোকসভা ভোট। কেন্দ্রের মোদী সরকারকে হঠাতে ইতিমধ্যেই অবিজেপি দলগুলি একত্রিত হয়ে গড়েছে ইন্ডিয়া জোট। সূত্রের খবর, সেদিন কয়েক লক্ষ মানুষকে দিল্লিতে জড়ো করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। দিল্লি পুলিশ রামলীলা ময়দানের কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পাল্টা কৌশল হিসেবে তৃণমূল দিল্লির আরও তিনটি জায়গার নামোল্লেখ করে পুলিশের অনুমতি চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে নজর রাখছেন তৃণমূলের নেতৃত্ব।
চন্দ্রিমার কথায়, “গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। ফলে পুলিশ অনুমতি না দিলেও আমাদের আন্দোলন হবে। এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিবেশ তৈরি হলে তার জন্য দায়ী থাকবে পুলিশই।”
আরও পড়ুন: ১ বৈশাখ ‘বাংলা দিবস’, বিধানসভায় প্রস্তাব সরকারের, দিল্লি ছাড়পত্র দেবে না দাবি শুভেন্দুর