
শেষ আপডেট: 9 October 2023 13:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০০ দিনের কাজ আবাস যোজনার বকেয়া টাকার দাবিতে গত ৫ দিন ধরে রাজভবনের উত্তর গেটের সামনে ধর্না মঞ্চ বেঁধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। যদিও এখনও পর্যন্ত রাজ্যপালের দেখা পাননি কেউই। গতকাল শনিবার কলকাতায় ফেরার আগেই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস প্রশ্ন তুলেছিলেন, কীভাবে রাজভবনের সামনে ১৪৪ ধারা থাকা সত্ত্বেও সেখানে আন্দোলনের অনুমতি পায় তৃণমূল! এ ব্যাপারে মুখ্য সচিবের কাছে কৈফিয়ৎ তলব করেছিলেন তিনি। তারপর আজ সোমবার কোর্ট খুলতেই কলকাতা উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়েছিল বিজেপি।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএসসি শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের করার অনুমতি চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
রাজভবনের সামনে তৃণমূলকে ধর্না করার অনুমতি কে দিল? যেহেতু রাজভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে, তাই সেখানে কীভাবে ধর্না মঞ্চ বাঁধল তৃণমূল? আইনের একাধিক ধারা তুলে এইসব প্রশ্নের জবাব মুখ্যসচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে রাজভবন সূত্রে খবর।
রাজভবন চিঠিতে আরও জিজ্ঞাসা করেছে, ধর্নামঞ্চ সরাতে রাজ্য প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? এখানে কি কোনও আইন ভাঙা হয়েছে? সবকিছুই অবিলম্বে রাজভবনকে জানাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফেও একই প্রশ্ন করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে, রাজ্যপাল যদি সোমবারের মধ্যে এই ধর্না নিয়ে কোনও ব্যবস্থা না নেন, তবে তাঁরাও রাজভবন অভিযান করবেন। বিজেপির এই হুঁশিয়ারির মধ্যেই রাজভবন চিঠি দেয় মুখ্যসচিবকে।
শনিবার দার্জিলিংয়ে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এসেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। জানা গিয়েছিল, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রদীপ মজুমদার, মহুয়া মৈত্রদের রাজ্যপাল আশ্বাস দিয়েছিলেন, শিগগির তিনি কলকাতায় ফিরবেন। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও দেখা করবেন। তারপর রবিবার রাত আটটা নাগাদ কলকাতার নামেন তিনি। রাজভবনের উত্তর গেটে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চের দিকে না গিয়ে দক্ষিণ গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকে যান তিনি। তবে সেই সঙ্গে জানান রাত এগারোটা পর্যন্ত নিজের কার্যালয়ে থাকবেন তিনি। সেই সময় কেউ চাইলে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারে।
তারপর যদিও সোমবার বিকেলে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিনি দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।