
শেষ আপডেট: 21 December 2023 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: বিউটি পার্লারের মালিক ও সেখানে কর্মরত মহিলাদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠল শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই বিউটি পার্লারের মালিক, যাঁকে বিজেপি তাদের সমর্থক বলে দাবি করেছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। অভিযুক্তকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। যদিও এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা এলাকায়।
অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, বাগদা থানা এলাকায় তাঁর একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকজন তরুণী কাজ করেন। অভিযোগ, কয়েকদিন আগে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে মিঠুন বালা নামে এক যুবক তাঁকে উত্যক্ত করেন। উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার করতেই পাশের ক্লাব থেকে ছুটে আসেন যুবকরা। ওই যুবককে বেদম মারধর করা হয়। পরে মারধরের ঘটনার সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
মহিলার দাবি, মিঠুন বালা নামে ওই যুবকের মা সিন্দ্রনী গ্রামপঞ্চায়েতে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর অভিযোগ, সাত মাস ধরে ওই যুবক তাঁকে উত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন। বিউটি পার্লারের হোর্ডিংয়ে লেখা মহিলার নম্বরে নিয়ে বারে বারে তাঁকে ফোন করতেন মিঠুন। ফেসবুকেও তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন।
মহিলার অভিযোগ, মিঠুন মেয়ে পাচারের সঙ্গে যুক্ত। তাঁকেও দলে টানার চেষ্টা করেছিলেন। যে তরুণীরা তাঁর বিউটি পার্লারের কাজ করেন, তাঁদের বিদেশে পাচার করে দিতে চেয়েছিলেন মিঠুন।
যদিও এই সমস্ত ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিঠুন বালা। তাঁর দাবি, তিনি বিদেশে লেবার সাপ্লাই করেন। কয়েকদিন আগে ইজরায়েলে লেবার পাঠানোর জন্য তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছিল। তাই মাইকিং করে প্রচারও চালিয়ে ছিলেন তিনি। সে কথা সকলেই জানেন।
দুদিন আগে প্রচার চালানোর সময়ে ওই মহিলা তাঁর নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তিনি নাম বলার পরেই মহিলা চিৎকার করে লোক জড়ো করেন। তখন তাঁকে মহিলা নিজের লোকজন দিয়ে মারও খাওয়ান। মিঠুনের অভিযোগ, তাঁর মা শাসকদলের পঞ্চায়েত সদস্য। তাই চক্রান্ত করে পাচারের মিথ্যে গল্প সাজিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
একই দাবি করেছেন অভিযুক্তের মা তথা শাসকদলের পঞ্চায়েত মেম্বার সদস্য মাধুরী বালা। তিনি বলেন, ''রাজনৈতিক কারণে পুরোপুরি মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে । পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, আমার ছেলে দোষী হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব।''
তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি সরব হয়েছে। তাঁদের দাবি, দলের এক মহিলা সমর্থককে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন শাসকদলের সদস্যের ছেলে। এই ঘটনা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। শাসকদলের সদস্য বলে যা খুশি করবে। পুলিশ দ্রুত এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।