দ্য ওয়াল ব্যুরো: জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের কথায় বেগম আখতার একদা গেয়েছিলেন, এই মৌসুমে পরদেশে যেতে তোমায় দেব না!
সে ছিল ভিন্ন সময়। এখন মরশুম ভোটের। যেতে দেব না বলেও আটকানো যাচ্ছে না অনেককেই। বরং একুশের লড়াইয়ের আগে পদ্ম পথে যাওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে। শুক্রবার সেই মরশুমে দীনেশ ত্রিবেদীও স্পষ্ট কথায় প্রশ্ন তুললেন, ‘কেন, বিজেপিতে যোগ দিলে ভুল কোথায়?’
দীনেশ ত্রিবেদী যে তৃণমূল ছাড়তে পারেন সে ব্যাপারে জল্পনা শুরু হয়েছিল বুধবার রাত থেকে। সে দিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার অংশ বিশেষ টুইট করে দীনেশ লিখেছিলেন, ব্যক্তিগত ভাবে এই কথা আমি সমর্থন করি।
তার পর শুক্রবার রাজ্যসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সঙ্গী। রাজ্যসভায় বলার সুযোগ কম ছিল। ও টুকু সময়েই তিনি জানিয়েছিলেন, তৃণমূলে তাঁর দম বন্ধ হয়ে আসছিল। বাংলায় নিত্য দিন রাজনৈতিক হিংসা দেখে তিনি ভারাক্রান্ত।
শুধু হিংসার ঘটনা নয়, দীনেশের মনে যে হতাশার পরত জমেছে, তা বোঝা যায় বিকেলের পর। দীর্ঘ দিন ধরে পুঞ্জীভূত অসন্তোষ, বিরক্তি, ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
তাঁর কথায়, নরেন্দ্র ভাই কি আমার আজকের বন্ধু। সেই নব্বইয়ের দশক থেকে আমার বন্ধু। অমিত ভাইয়ের সঙ্গেও আমার বন্ধুত্ব অনেক দিনের। তাঁদের সঙ্গে খোলাখুলি কোনও কথা আলোচনা করা যায়। মতান্তর হলে বলা যায়। কিন্তু তৃণমূলে তা বলা যায় না। নিচুতলার সঙ্গে উপরের তলার কোনও যোগাযোগই নেই। তোষামোদরা সর্বক্ষণ কানে দিচ্ছে।
কী কানে দিচ্ছে? দীনেশের কথায়, তোষামদদের এতে অন্যায় নেই। তাঁরা যা ইচ্ছা বলতে পারেন। কিন্তু শীর্ষ নেতৃত্ব তা সঠিক না বেঠিক যাচাই করবেন তো! কানে দেখবেন কেন? ত্রুটি তো সেখানেই। এখানেই না থেমে দীনেশ বলেন, আমি কেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহর বিরুদ্ধে কড়া কথা বলছেন না, কেন গালমন্দ করছি না তা নিয়ে কান ভাঙাচ্ছে! আরে তোমরাই বলছ, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগরের দেশ। সেই সংস্কৃতি কি শিখিয়েছে যে অকারণে গালমন্দ করো? মতান্তর হলে বিরোধের কথা জানানোরও ভাষা রয়েছে।
তাঁর কথায়, বাংলায় মেধার অভাব নেই। তা সে বিজ্ঞান গবেষণা হোক বা সাহিত্য চর্চা কিংবা নাটক। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স হোক বা হার্বাড, সেখানে গেলে দেখা যায় বাঙালি অধ্যাপকরাই পড়াচ্ছেন। তা হলে বাংলা পিছিয়ে থাকবে কেন? কেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কারণ ছাড়াই যুদ্ধ করে যেতে হবে। কেন ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বলতে হবে আমি আক্রান্ত। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে ক্ষতিটা কোথায়?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখে না আনলেও দীনেশ কাকে নিশানা করছেন তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি। তা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বিজেপিতেই যাচ্ছেন?
জবাবে সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বলেন, বিজেপিতে গেলে ভুল কোথায়? চাইলে ২০১৪ সালেই আমি যেতে পারতাম। নরেন্দ্র ভাই, অমিত ভাইরা বলেছিলেন। আমার জন্য দরজা খোলা ছিল। হয়তো মন্ত্রীও হয়ে যেতাম। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে আমি নিজের সঙ্গেই রয়েছি। কয়েক দিন ভাবব। তার পর ভবিষ্যৎ স্থির করব।
এদিন অন্য একটি সংবাদমাধ্যমে দীনেশ এও বলেন যে, রাজনীতির যাঁরা অ, আ, ক, খ জানে না। তাঁরাই এখন তৃণমূলের নেতা। তাঁর কথায়, তৃণমূল আর শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নেই। তা কর্পোরেট পেশাদারদের ব্যবস্থাপনায় চলে গিয়েছে। কারও কাছেই কথা বলার সময় নেই।
পরে সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে দীনেশ ও বাবুল সুপ্রিয় ঘটনাচক্রে মুখোমুখি পড়ে যান। দীনেশ ছিলেন ভার্চুয়ালি। লাইভে দেখা যাচ্ছিল তাঁকে। বাবুল অনুষ্ঠানের অতিথি আসনে বসেছিলেন। দীনেশকে দেখেই বাবুল বলেন, ওয়েলকাম টু বিজেপি। তাতে এক গাল হেসে দেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।