
শেষ আপডেট: 13 January 2024 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাতে টিটাগড়ের দলীয় সভায় খুন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তারপর কাটেনি ২৪ ঘণ্টাও। এরই মধ্যে এবার বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়াল প্রশাসন।
ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ দাবি করেছিলেন, পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া সোমনাথ শ্যাম কোনও কাজ করেন না। মানুষের সঙ্গে তাঁর কোনও সংযোগ নেই। তাই প্রশাসন জগদ্দলের বিধায়কের নিরাপত্তা তুলে দিক। এদিকে এলাকায় অশান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শুক্রবার সোমনাথ বলেন, ‘আবারও কাল খুন হতে পারে। আমিও মরে যেতে পারি। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাব।’ আর এরপরই শনিবার বিধায়কের নিরাপত্তা বাড়ানো হল।
প্রশাসনের তরফে সোমনাথ শ্যামের নিরাপত্তার দায়িত্বে এতদিন ছয় জন দেহরক্ষীকে রাখা হয়েছিল। এখন আরও চারজন নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানো হয়েছে। সুতরাং এখন থেকে ১০ জন জগদ্দলের বিধায়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবেন।
শুধু সোমনাথ শ্যাম নয়, নিরাপত্তা বেড়েছে রাজ্যের সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিকেরও। রাজ্য প্রশাসনের তরফে তাঁর ক্ষেত্রেও চার জন দেহরক্ষী বাড়ানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে স্বীকার করলেও, কেন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে কেউই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বেশ অনেক দিন ধরে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং বনাম সোমনাথ শ্যামের দ্বন্দ্ব জারি রয়েছে। ভাটপাড়ায় তৃণমূল কর্মী ভিকি যাদব খুনের ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুনের সঙ্গে সোমনাথের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। গত ২১ ডিসেম্বর সাংসদের ভাইপো সঞ্জীব সিংহ গ্রেফতার হওয়ার পর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের সেই সংঘাত আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর নৈহাটি পুরসভায় বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী। অর্জুন এলেও সেদিন সোমনাথ যাননি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর এরই মধ্যে অর্জুনের দাবি খারিজ করে সোমনাথ শ্যামের নিরাপত্তা বাড়ানো হল। যদিও এই নিরাপত্তা বৃদ্ধি নিয়ে পুলিশের তরফে ‘রুটিন’ বলে জানানো হয়েছে।