.webp)
শেষ আপডেট: 15 November 2023 15:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা রাজ্য তথা দেশ তাঁকে 'দিদি' নামেই চেনে। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইফোঁটা দেবেন না তা কি হয়? মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ভাইফোঁটা বরাবরই 'সেন্টার অফ অ্যাট্রাকশন'। নিজের ভাইদের তো বটেই, রাজ্যের মন্ত্রী-বিধায়ক, এমনকী সাংবাদিকদেরও ফোঁটা দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি বছরই বেশ বড় করে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার অনুষ্ঠান হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেই অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত, কারা বাদ তা দিয়ে বরাবরই রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝার চেষ্টা করা হয়। এবারেও নেতা-মন্ত্রী বিধায়ক মিলিয়ে বেশ কয়েকজন ফোঁটা পেয়েছেন দিদির কাছ থেকে। গতবারের তালিকা থেকে কেউ কেউ যেমন বাদ পড়েছেন, তেমন লিস্টে নতুন করে নাম জুড়েছে কয়েকজনের।
এই বছর মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ফোঁটা নিয়েছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং শান্তনু সেন ফোঁটা পেয়েছেন। দিদির আশীর্বাদ পেয়েছেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা সমীর চক্রবর্তী এবং উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক নির্মল মাজি সহ কয়েকজন। এছাড়াও অন্যান্য বছরের মতো এবারেও বেশ কয়েকজন সাংবাদিককেও ভাইফোঁটা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকতে দেখা গেছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তাঁকেও ফোঁটা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ভাইফোঁটায় বড় আকর্ষণ ছিলেন মুকুল রায়। ২০১৭ সালে ভাইফোঁটার ঠিক আগেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়। তারপর তিনি কখনও বিজেপি, কখনও তৃণমূল। মুকুল যে আসলে কোন ফুলে রয়েছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছিল না। কিন্তু ২০২২ সালের ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দুপুরে সকলকে অবাক করে আচমকাই মুকুল রায় হাজির হয়েছিলেন দিদির বাড়িতে। এককালের বিশ্বস্ত সৈনিককে আগের মতোই ভাইফোঁটা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে সেসব এখন অতীত। এখন মুকুল রায় সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতেই নেই বললে চলে। খাতা কলমে বিধায়ক থাকলেও, তিনি রীতিমতো এখন অসুস্থ। সেই ছবিও কিছুদিন আগেই ছড়িয়ে পড়েছিল নেটমাধ্যমে।
মুখ্যমন্ত্রীর ভাইফোঁটার তালিকায় গত বছরের তুলনায় এ বছর কাটছাঁট তেমন হয়নি। তবে কিছু নতুন মুখ সংযোজিত হয়েছে। ২০২২ সালে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে আমন্ত্রিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত বক্সী, ডেরেক ও ব্রায়েন সহ আরও কয়েকজন।
আগে মুখ্যমন্ত্রীর 'ভাই'দের তালিকায় বাঁধা নাম ছিল সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে ২০২২ সালে ভাইফোঁটার আগেই পার্থ জেলে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর ফোঁটা নিতে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। আর সুব্রত মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন। নইলে তিনিও প্রতিবার একডালিয়ার বাড়িতে বোনেদের থেকে ফোঁটা নিয়ে দিদির বাড়ি চলে যেতেন।