
মদন মিত্র এবং সৌগত রায়
শেষ আপডেট: 15 July 2024 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মা এবং ছেলেকে বেধড়ক মারধর, তার ভিডিও ভাইরাল। জয়ন্ত সিং-এর কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেস এই মুহূর্তে ব্যাপক অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে। জয়ন্ত গ্রেফতার হওয়ার পর সৌগত রায় এবং মদন মিত্রকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। সোমবার তৃণমূলের এই দুই নেতা সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকে সৌগত রায় স্পষ্ট জানালেন, কোনও ভুল হলে সংশোধন করে নিতে হবে।
সোমবার কামারহাটি পুরসভার বিধায়ক মদন মিত্র এবং চেয়ারম্যান গোপাল সাহার সঙ্গে বৈঠক করেন সৌগত রায়। সেই বৈঠকের পরই তিনি দলের নেতা-কর্মীদের পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার বিষয় নিয়ে হুঁশিয়ারি দেন। পাশাপাশি, কোনও প্রোমোটারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন। সৌগতর স্পষ্ট কথা, এমন কারও সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না, যার জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে।
এই বৈঠকের পরই সাংবাদিক বৈঠক করে মদন মিত্রকে পাশে নিয়ে সৌগত বলেন, ''অতীতে যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমরা তা সংশোধন করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজ দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে যারা ছিলেন তারা সবাই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন।'' জয়ন্ত সিং-এর বিশাল অট্টালিকার ছবি এবং ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। সেই নিয়ে বিরোধীর কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তবে সৌগত রায়ের কথা, তাঁরা জানতেনই না জয়ন্তর এত বড় বাড়ি আছে।
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা বলছেন, ''সত্যিই জানতাম না ওঁর (জয়ন্ত সিং) এত বড় বাড়ি আছে। কেউ না বললে আমরা জানব কী করে। সংবাদমাধ্যমও তো আমাদের কিছু জানায়নি।'' এই প্রসঙ্গে কার্যত সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি। সৌগতর কথায়, ''কোনও গন্ডগোল না হওয়া পর্যন্ত তো সংবাদমাধ্যমও কিছু জানায় না। কোথায় কোন বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে সেটা তো তারাও ঘুরে ঘুরে দেখায় না।''
জয়ন্ত সিং ইস্যুতে বিরোধীদের দাবি ছিল, তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নেতা। এমনকী মদন মিত্রের সঙ্গে তাঁর ছবিও ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে সৌগত রায়ের প্রসঙ্গ টেনে মদনের বক্তব্য ছিল, "এরকম গুন্ডামি দেখলে পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ বলে সৌগত রায়কে বলুন। ওনাকে (সৌগত রায়) বার বার বলেওছি, উনি বলেছেন দেখছি।’’ স্বাভাবিকভাবেই মদনের এই মন্তব্যের পর বঙ্গ রাজনৈতিক মহল একটা দ্বন্দ্বের গন্ধ পেয়েছিল। পরে অবশ্য পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সৌগত রায়ও অভিযোগ করেন।
এক্ষেত্রে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জয়ন্তকে পুলিশ নতুন করে হেফাজতে নিতেই নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে পুলিশের ঘাড়েই দোষ চাপাচ্ছেন সৌগত, মদনরা। সোমবারের তৃণমূলের এই বৈঠককেও কটাক্ষ করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। সেই প্রসঙ্গ সংবাদমাধ্যমে সৌগতর সাফ কথা, ''সুকান্ত একজন মূর্খ। ও বেশিদিন রাজনীতিতে টিকতে পারবে না। বরাহনগর, কামারহাটি সম্পর্কে ও কিছুই জানে না তাহলে কথা বলছে কী করে।'' সুকান্তকে সৌগতর খোঁচা, লোকসভায় হেরেছে, উপনির্বাচনেও হেরেছে, কোথায় মাথা নীচু করে থাকবে, তা না বিবৃতি দিচ্ছে।