
শেষ আপডেট: 1 March 2024 22:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৫৬ দিন পরে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা শাহজাহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদ থেকেও শাহজাহানকে সরিয়ে দেওয়া হল। শুক্রবার এবিষয়ে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী।
শাহজাহানের তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি। আদালত ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ার পর সন্দেশখালির তৃণমূল নেতাকে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে বলে সিআইডি সূত্রের খবর।
এদিকে শুক্রবার জেলা পরিষদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর শাহজাহানের অফিস থেকে তাঁর নামের ফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যদিও শাহজাহানের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা এখনও দলের অন্দরে ঠিক হয়নি বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর।
অন্যদিকে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দফায় দফায় জেরা করেন তদন্তকারীরা। সেখানেই শাহজাহান নিজের পুরনো বয়ান থেকে সরে এসেছেন । সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডির কাছে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতার দাবি, ৫ জানুয়ারি সরবেড়িয়ায় ইডি-র ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর কোনও যোগ নেই। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশের অন্দরেও শোরগোল তৈরি হয়েছে। কারণ গ্রেফতারের পর শাহজাহান নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করেছিল, তাঁর নেতৃত্বেই সেদিন পুলিশের ওপর হামলা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন নিজের বয়ান বদলালেন শেখ শাহজাহান? ইতিমধ্যে সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেখানে শাহজাহান অনুগামীদের হামলায় আহত হন তিন ইডি আধিকারিক। তারপর থেকেই বেপাত্তা হয়ে যান এলাকার দাপুটে নেতা। তিনি কোথায় রয়েছেন, তন্ন তন্ন করে খুঁজেও সন্ধান পায়নি ইডি-পুলিশ। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মিনাখাঁর বামনপুকুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আপাতত আগামী ১০ দিন ভবানী ভবনই শাহজাহানের ঠিকানা।