
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 10 April 2024 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আদালতের এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সাংবাদিক বৈঠক থেকে কুণাল ঘোষ সরাসরি নাম নিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। কিন্তু এই বিষয়ে কেন হঠাৎ তাঁর নাম নিলেন কুণাল?
বিচারপতি পদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন দুর্নীতি মামলায় তার অধিকাংশ রাজ্যের বিরুদ্ধেই গেছিল। প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে চলে আসার পর এই রায়গুলি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। স্পষ্ট দাবি, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই রায় দিয়েছিলেন। সন্দেশখালির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ আসার পরই এই প্রসঙ্গ টেনেছে তৃণমূল। বিচারব্যবস্থা এবং বিচারপতিদের প্রতি ‘সম্পূর্ণ আস্থা’ রেখেই এই রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন কুণাল ঘোষ।
কোনও সরকার বিরোধী কড়া নির্দেশ এলেই মনে হয় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় চলে গেছেন, কিন্তু কয়েকটি ছায়া রেখে গেছেন! এমনই বলছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর বক্তব্য, ''অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, আদালতের মধ্যে সরকার বিরোধী, তৃণমূল বিরোধী, বিজেপি পন্থী মনোভাব কাজ করছে। একজন পদ ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। আরও কয়েকজন অভিজিৎ এরপর তালিকায় আছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ।''
কুণাল বারবার বলে গেছেন, তাঁরা বিচারব্যবস্থাকে পূর্ণ সমর্থন করেন, বিচারপতিদের প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। তাও একে একে তাঁর আক্রমণের নিশানায় ছিলেন সেই বিচারপতিরাই। কুণালের দাবি, বিচারপতিদের মধ্যে যে বিজেপির প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তৃণমূল-বিরোধিতার মানসিকতা রয়েছে, তা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ই প্রমাণ করে দিয়েছেন। এখন কেউ হয়তো সরকারকে বিড়ম্বনায় ফেলতে বা, ভোটের আগে বিজেপিকে বাড়তি অক্সিজেন দিতে চাইছেন!
আগেই সন্দেখালিতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়ে ইডির আধিকারিকদের উপর হামলায় ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এবার সন্দেশখালিবাসীর বাকি সমস্ত অভিযোগের তদন্তভারও সিবিআই-এর হাতে গেল। বুধবার প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।