
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 00:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে মিডিয়ার স্পোকসপার্সন এবং মিডিয়া প্যানেলিস্টদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করল তৃণমূল। মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্বভার সামলাবেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। তাঁকে সহযোগিতার দায়িত্বে রয়েছেন কুণাল ঘোষ এবং জয়প্রকাশ মজুমদার।
সূত্রের খবর, এদিন জয়প্রকাশ ও কুণাল বিধানসভায় মন্ত্রী অরূপের কাছে যান। সেখানেই দলের মুখপাত্রদের নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন থেকে রাজ্যস্তরে তৃণমূলের ৬ জন স্পোকসপার্সন থাকবেন। এঁরা হলেন- মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মন্ত্রী শশী পাঁজা, কুণাল ঘোষ, সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মন্ত্রী সুজিত বসু ও মলয় ঘটক।
এছাড়াও ১২ জনের একটি মিডিয়া প্যানেলিস্ট তৈরি করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সমীর চক্রবর্তী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, সন্দীপন সাহা, ওয়েবকুপার অধ্যাপক প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায়, তন্ময় ঘোষ, মোশারফ হোসেন এবং হিন্দি মিডিয়ার জন্য দীনেশ বাজাজ।
এছাড়াও অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে দলের তরফে বলবেন অমিত মিত্র এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শিল্পের বিষয়ে শশী পাঁজা ও পার্থ ভৌমিক। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে উদয়ন গুহ, গৌতম দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। জঙ্গলমহলের ক্ষেত্রে বীরবাহা হাঁসদা ও মানস ভুঁইয়া। জনজাতির (আদিবাসী) ক্ষেত্রে বুলুচিক বরাইক এবং চা বাগানের ক্ষেত্রে মলয় ঘটক।
অর্থাৎ দায়িত্ব ভাগ করে দিল তৃণমূল। এখন থেকে আর আলপটকা মন্তব্য করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে যে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সেটাও সোমবারই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এখন থেকে কাউকে তিনবার শোকজ করা যাবে। না শুধরালে এরপর সংশ্লিষ্ট নেতাকে দল সাসপেন্ড করবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, দলের রাশ টানতে এ পদক্ষেপ নজিরবিহীন। কারণ, সাম্প্রতিক অতীতে দলের একাংশ নেতার মধ্যে 'ইচ্ছে হল, আর বেফাঁস মন্তব্য করে দিলাম' এমন মনোভাব দেখা গেছে। তাতে আখেরে দলের বিড়ম্বনা বেড়েছে বই কমেনি।
বস্তুত, দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে সোমবারই চন্দ্রিমা জানিয়েছিলেন, দলের কথা যিনি শুনবেন না তাঁকে শাস্তির কোপে পড়তে হবে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এরপরও মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দেখা গেছে নিজস্ব মেজাজে। এদিনও দলের একাংশ নেতৃত্বর বিরুদ্ধে মিডিয়ার সামনে মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। হুমায়ুন এও বলেছেন, "অন্যায় হলে আমাকে তো বলতেই হবে। আমি কাউকে ভয় ডর করি না।"
ফলে হুমায়ুনকে দিয়েই দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির পদক্ষেপ শুরু হয় কিনা, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।